ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় সাত বছর বয়সী এক শিশুর অস্বাভাবিক মৃত্যুতে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শিশুটি গত দুই দিন ধরে নিখোঁজ ছিল। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তার হাতে ছিল মাংসের একটি পোঁটলা। নিখোঁজের ৪৮ ঘণ্টা পর বাড়ির পাশের একটি পুকুরপাড়ের ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য শিশুটির মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মর্মান্তিক এই ঘটনার সময় শিশুটির মা ছিলেন একেবারেই পরিস্থিতির বাইরে। তিনি অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় সন্তান প্রসবের জন্য জেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। প্রসববেদনা নিয়ে হাসপাতালে থাকা অবস্থায় তিনি এখনো তাঁর সন্তানের মৃত্যুর খবর জানেন না বলে জানিয়েছেন শিশুটির মামা। বাড়িতে দুই মেয়েকে নিয়ে থাকতেন মা, আর বাবা ঢাকায় একটি বেকারিতে কর্মরত। নিহত শিশুটি একটি স্থানীয় মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল।
ঘটনার তদন্তে গিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, সুরতহাল প্রতিবেদনে লাশটি অর্ধগলিত অবস্থায় পাওয়া গেছে। পচন ধরায় শরীর ফুলে যাওয়াসহ মুখমণ্ডল কালো হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন নবীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব কান্তি দাস। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে শিশুটির স্যান্ডেল পাওয়া গেলেও হত্যাকাণ্ডের কোনো স্পষ্ট আলামত বা ক্লু এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি। সুরতহালকারী কর্মকর্তা এসআই মেহেদি হাসানের ভাষ্যমতে, লাশটি অন্য কোথাও হত্যা করে পরে এখানে ফেলে রাখা হতে পারে। মৃত্যুর দীর্ঘ সময় পার হওয়ায় শরীরে পচন ধরে সব আলামত নষ্ট হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, মৃত্যুর ৪৮ ঘণ্টা পর মানবদেহে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন ও পচন প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ কারণে লাশ ফুলে যাওয়া ও চেহারা পরিবর্তনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ জানিয়েছেন যে এলাকা থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে সেখানে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। শিশুটি যে মাংস নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল, সেটিও পাওয়া যায়নি। এই রহস্য উদ্ঘাটনে শিশুটিকে সর্বশেষ যারা দেখেছিল, তাদের পাশাপাশি স্থানীয় গ্রামবাসীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নিহতের পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন কেউই শিশুর মৃত্যুর কারণ অনুমান করতে পারছেন না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মর্গের সামনে শিশুটির মামা বলেন, বোন এখনো ভাগনির মৃত্যুর খবর জানে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নিহত শিশুটি নবীনগরের একটি মাদ্রাসায় পড়ত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মায়ের সঙ্গে নানির বাড়িতে যাওয়ার কথা সাত বছর বয়সী মেয়ের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মা তাঁর বাবার বাড়িতে গিয়ে দেখেন, মেয়ে পৌঁছায়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার একটি গ্রামের ঘটনা এটি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সে কারণে পরিবারের লোকজন তাকে সেখানে খোঁজ করেনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হত্যার পর লাশ হয়তো বস্তাবন্দী করে রেখেছিল।






