
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারান ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তেহরানে তাঁর কার্যালয়ে চালানো ওই একই হামলায় তাঁর ৫৬ বছর বয়সী ছেলে মোজতবা খামেনি আহত হলেও অল্পের জন্য বেঁচে যান। পরবর্তীতে তাঁকে চিকিৎসার জন্য একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি দ্বিতীয় দফায় হামলার মুখোমুখি হন। ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের সদস্য আয়াতুল্লাহ মোহসেন হেইদারির বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্ট এ খবর জানিয়েছে।
কাতারি সংবাদমাধ্যম ‘আল আরাবি’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হেইদারি জানান, প্রথম হামলার পর মোজতবা খামেনিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এর পরপরই তেহরানের তিনটি হাসপাতালে বোমারু হামলা চালানো হয়। মোজতবা খামেনি যে তৃতীয় হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন ছিলেন, সেটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তাঁকে ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এর পর সুরক্ষার স্বার্থে তাঁকে একটি গোপন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁর কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য বা উপস্থিতি না পাওয়া গেলেও, হেইদারির মতে তিনি সুস্থ রয়েছেন এবং রাষ্ট্র পরিচালনার পুরোপুরি উপযুক্ত। তবে তাঁর স্বাস্থ্যের বিষয়ে দেওয়া এ তথ্য নিরপেক্ষ কোনো সূত্রে নিশ্চিত করা যায়নি। হেইদারি তাকে সুস্থ ও নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতাসম্পন্ন বলে দাবি করলেও, এ বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। এরপর থেকে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি বা তার কোনো বক্তব্যও শোনা যায়নি।
এমন পরিস্থিতিতেই ৮ মার্চ ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস মোজতবা খামেনিকে দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে অনুমোদন দেয়। হেইদারি উল্লেখ করেন, কুম শহরে সংস্থাটির সচিবালয়েও হামলা চালানো হয়েছিল। সেখানে কয়েকজন কর্মী নিহত হওয়ার পাশাপাশি নেতৃত্ব বাছাইসংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নষ্ট হয়ে যায়। নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে পরবর্তীতে সদস্যদের গোপনীয় বৈঠকে ডেকে সরাসরি কাগজের ব্যালটে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করা হয়।
বৈঠকের বিবরণ দিয়ে হেইদারি জানান, তিনিই প্রথম মোজতবা খামেনির নাম প্রস্তাব করেছিলেন। সদস্যরা নিশ্চিত হন যে তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ এবং ধর্মীয় নীতি, ন্যায়পরায়ণতা ও দূরদর্শিতার দিক থেকে দায়িত্ব পালনে সক্ষম। ভোটাভুটিতে মোট ৫৯টি ভোটের মধ্যে ৫০টি পান মোজতবা খামেনি। অন্যদিকে আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি ৮টি ভোট পান এবং একজন সদস্য ভোট প্রদান থেকে বিরত ছিলেন। তবে অন্যান্য বেশ কিছু সূত্রে ভোটের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। এদিকে মোজতবা খামেনির স্বাস্থ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা জল্পনা রয়েছে।
নতুন সর্বোচ্চ নেতার বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভিন্ন ভিন্ন দাবি উঠে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বে দাবি করেছিলেন যে মোজতবা খামেনি মারাত্মক আহত হলেও জীবিত আছেন। অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সাম্প্রতিক সময়ে দাবি করেন যে তিনি পুরোপুরি সুস্থ। বর্তমানে তাঁর সঠিক অবস্থান ও শারীরিক অবস্থার বিষয়ে নিরপেক্ষ কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ পায়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০