ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডস (ডব্লিউসিএল)-এ সেমিফাইনালের স্বপ্ন নিয়ে শারজায় মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা লিজেন্ডসের বিপক্ষে লড়াই করতে গিয়ে ব্যাটে-বলে ব্যর্থতায় আসর থেকেই ছিটকে যেতে হয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দলকে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রোটিয়াদের কাছে বাংলাদেশ হেরেছে ৮৮ রানের বড় ব্যবধানে। ৮৮ রানের বড় হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।
ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে তারা তোলে ২১০ রানের বিশাল সংগ্রহ। বাংলাদেশের হয়ে রুবেল হোসেন, আবু জায়েদ চৌধুরী রাহী ও কামরুল ইসলাম রাব্বি একটি করে উইকেট শিকার করেন। শুরুতে কামরুল ইসলাম রাব্বির বলে রুবেল হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ডু প্লেসিস (১৪ বলে ১৮ রান)। ওয়েন পারনেল ১৩ বলে ২২ রান করে ফিরে গেলেও জেপি ডুমিনি ছিলেন বিধ্বংসী মেজাজে। শেষ পর্যন্ত তিনি ৪৯ বলে ৮৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এছাড়া মর্নে ভ্যান উইক ৩০ এবং কলিন ইনগ্রামের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে প্রোটিয়ারা দুইশ রান অতিক্রম করে। দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে শুরুতে উইকেট পেলেও প্রতিপক্ষের রানের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি বাংলাদেশের বোলাররা। এরপর ব্যাট হাতে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হন জেপি ডুমিনি। মর্নে ভ্যান উইক ১৯ বলে ৩০ রান করে আউট হওয়ার পর ক্রিজে এসে ঝড় তোলেন কলিন ইনগ্রাম।
জবাবে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিতে বাংলাদেশকে ১১.৫ ওভারের মধ্যে ২১১ রানের লক্ষ্য ছুঁতে হতো, যা ছিল অত্যন্ত কঠিন এক সমীকরণ। শুরু থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং তোপে চরম বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় ৪ রানের মাথায় প্রথম দুটি উইকেট হারায় তারা। দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছানোর আগেই তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটলে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় বাংলাদেশ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতনের মুখে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেছিলেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তিনি ২৬ বলে ৩৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন।
নিচের সারির ব্যাটারদের ব্যর্থতার দিনে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন আরাফাত সানি, যিনি ৩০ বলে ৩১ রান করেন। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স তাদের নির্ধারিত ওভারের আগেই ১২২ রানে অলআউট হয়ে যায়। ৮৮ রানের এই বিশাল ব্যবধানে হারের ফলে ডব্লিউসিএল থেকে বিদায় নিশ্চিত হয় রিয়াদ অ্যান্ড ব্রাদার্সের।






