অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার কাছে মাত্র ৪ রানে হেরে ট্রফি হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশ। ফয়সালাবাদের ইকবাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শিরোপানির্ধারণী ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৫৮ রান তোলে শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ দল। জবাবে নির্ধারিত সময় শেষে ১৫৪ রানে থামে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দলের ইনিংস। লিগ পর্বের তিন ম্যাচের পর ফাইনালেও শ্রীলঙ্কা জুজু কাটাতে পারল না অধিনায়ক সাদিয়া ইসলামের দল। এরপর টপঅর্ডারদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহও পেয়ে যায় শ্রীলঙ্কা।
ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কাকে শক্ত ভিত গড়ে দেন দুই ওপেনার। দলটির পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৪ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন ওপেনার সাঞ্জানা কাভিন্দি। এছাড়া উমায়াঙ্গানা পেইরিস ২৮, বালাসুলিয়া ২৩, উপেক্ষা ২২ ও সেওমিনি ১৫ রান করেন এবং মেথসারা করেন ১ রান। বাংলাদেশের চারজন বোলার একটি করে উইকেট শিকার করেন। লঙ্কানদের ভালো সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার।
১৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় জুনিয়র টাইগ্রেসরা। ম্যাচের দ্বিতীয় বলেই সাজঘরে ফেরেন ওপেনার মাইমুনা নাহার এবং পরবর্তী ওভারে বিদায় নেন আরেক ওপেনার অচেনা জান্নাত। মাত্র ৪ রানে ২ উইকেট হারানোর পর ইনিংস পুনর্গঠনের চেষ্টা করেন নিশিতা আক্তার নিশি ও শিরিনা খাতুন। এই জুটি ১৬ বলে ১৭ রান যোগ করার পর দলীয় ২১ রানে আউট হন শিরিন। দলীয় ২১ রানে শিরিন ফিরে গেলে ফের বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় ৮৮ রানের মাথায় রানআউটের শিকার হন নিশিতা।
চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক সাদিয়া ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে চাপ সামাল দেন নিশিতা। তাঁদের মধ্যে ৫১ বলে ৬৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ওঠে। তবে ৩৩ বলে ৩২ রান করে নিশিতা রানআউট হলে ভাঙে এই প্রতিরোধ। এরপর অধিনায়ক সাদিয়া ৩টি চার ও ৫টি ছক্কার সাহায্যে ৩৬ বলে ৫৯ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেলেন। তিনি বিদায় নেওয়ার পর ফারজানা ইয়াসমিনকে সঙ্গে নিয়ে সাদিয়া আক্তার ২০ বলে ২৮ রান যোগ করেন। ৩৩ বলে ৩২ রান করে থামেন ডানহাতি এ ব্যাটার। ৩ চার ও ৫ ছ্ক্কায় ৩৬ বলে ৫৯ রান করে অধিনায়ক সাদিয়া বিদায় নিলে ভাঙ্গে পঞ্চম উইকেট জুটি।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার ছিল ১৯ রান। তৃতীয় বলে সাদিয়া আক্তার ছক্কা হাঁকিয়ে আশা জাগালেও এক বল পরেই সাজঘরে ফেরেন। সাদিয়ার বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয় ম্যাচ জয়ের স্বপ্নও। ফারজানার বিদায়ের পর বিবি আয়েশাকে নিয়ে সাদিয়ার লড়াই বাংলাদেশকে জয়ের কাছাকাছি নিলেও জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে পারেনি। শ্রীলঙ্কার পক্ষে চমুধি হেরাথ ও চমুদি প্রবোদা ২টি করে উইকেট দখল করেন।






