
গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকায় ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ইউনিট-২-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের কালো ধোঁয়ায় পুরো এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কারখানাটিতে তখন প্রায় ২০০ শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। আকস্মিক এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে শ্রমিকদের মধ্যে হুড়োহুড়ি ও বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। তবে শ্রমিকেরা দ্রুত কারখানা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হওয়ায় বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। অন্যান্য দিনের মতো কারখানায় শ্রমিকের কাজ করছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়া আমাদের ফ্লোরে ছড়িয়ে পড়ে। যাঁর যাঁর অবস্থান থেকে নিচে সরে আসতে শুরু করেন তাঁরা।
কারখানার চতুর্থ তলার ট্যাবলেট সেকশনে কর্মরত শ্রমিক রুমা আক্তার বলেন, সকালে নিয়মিত কাজের সময় হঠাৎ ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়তে দেখেন। এরপরই শ্রমিকেরা আতঙ্কিত হয়ে নিচে নামতে শুরু করেন। নিচে নামার সময় এক সহকর্মী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত বাইরে আনা হয়। কারখানাটির অন্য শ্রমিক আফরোজা বেগম ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, আগুনের ধোঁয়া যখন চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল, তখন মনে হয়েছিল আর হয়তো বেঁচে ফিরতে পারব না। চারপাশ অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল এবং ধোঁয়ায় চোখ জ্বলছিল। কোনোভাবে প্রাণ বাঁচাতে পারায় তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন। এ সময় আমি ও অন্য শ্রমিকেরা দৌড়ে নিচে নেমে আসি। পরে তাঁকেও উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসা হয়। আগুনের ধোঁয়ায় চোখ জ্বালাপোড়া করতেছিল।
আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিট সম্মিলিতভাবে কাজ করেছে। প্রাথমিকভাবে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ইউনিট কাজ শুরু করলেও ভয়াবহতা বিবেচনায় আরও সাতটি ইউনিট যুক্ত হয়। বেলা একটার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্য ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কর্মীরা উদ্ধারকাজে যোগ দেন। দীর্ঘ চার ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর চেষ্টার পর বেলা দুইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ নিশ্চিত করেন।
কারখানা ভবনটি ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও কাচ দিয়ে নির্মিত হওয়ায় আগুন নেভাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের। টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা শাহিন আলম জানান, ভবনের বিভিন্ন অংশ দ্রুত পুড়ে যাওয়ায় অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছিল। কারখানার ভেতরে থাকা প্রচুর ওষুধ, উৎপাদন সরঞ্জাম ও বিভিন্ন মালামাল অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ নিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তথ্যে কিছুটা ভিন্নতা পাওয়া গেছে। ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা শহিদুল ইসলামের ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। অন্যদিকে, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ জানান, কারখানার চারতলা ভবনের কেমিক্যাল থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে।
আগুন পুরোপুরি নেভানোর পর এখন ভেতরে ডাম্পিংয়ের কাজ চলছে, যা বৃহস্পতিবার সারা দিন ধরে চলবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র তলব করা হয়েছে। তাদের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০