
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান সম্প্রসারণবাদী নীতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন জর্ডান, তুরস্ক ও কাতারের শীর্ষ নেতৃত্ব। অধিবেশনে জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ইসরাইল সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এখন পুরো অঞ্চলের জন্য ভয়াবহ হুমকিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ সিরিয়ার সীমান্ত এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর বারবার অনুপ্রবেশ এবং ভূখণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টাকে তিনি সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার ওপর হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। জর্ডানের বাদশাহ সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি এই পরিস্থিতি দেখেও নিষ্ক্রিয় থাকে, তবে ইসরাইল তাদের আগ্রাসী মনোভাব আরও বাড়িয়ে তুলবে। তিনি জেরুজালেমের পবিত্র স্থানসমূহের ঐতিহাসিক ও আইনগত মর্যাদা রক্ষা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের প্রতি অটল থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তার মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রতিবার চোখ ফিরিয়ে নিলে ইসরাইল আরো এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান গাজা ও সংলগ্ন অঞ্চলে ইসরাইলের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড বন্ধে বিশ্ববাসীকে আরও কার্যকর ও জোরালো চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তারা গাজায় স্থায়ী শান্তির পথে ইসরাইলের অনীহা ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। উভয় নেতা আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহন করিডরসহ বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে একমত হয়েছেন। এরদোয়ান ও শেখ তামিমের আলোচনায় দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোও গুরুত্ব পেয়েছে। আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে যে সমস্যা তৈরি হচ্ছে, তা মোকাবিলায় জ্বালানি ও পরিবহন করিডর নিয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান কালকে ইতিহাসের অন্যতম বিপজ্জনক পর্যায় হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দীর্ঘস্থায়ী সংকটের সমাধান না হওয়ার পেছনে আন্তর্জাতিক আইনের অবহেলা এবং অস্থায়ী সমাধানের অকার্যকারিতাকে দায়ী করেন। সংকট উত্তরণে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত শান্তি সম্ভব নয়। তার মতে, সংলাপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সমস্যার স্থায়ী সমাধানই এখন সময়ের দাবি। তার মতে, এ ধরনের ব্যবস্থায় রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান এবং বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা থাকতে হবে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কাতার, জর্ডান এবং তুরস্কসহ আটটি আরব ও মুসলিম দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গাজার ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা অবিলম্বে গাজায় নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের দাবি জানান। এই মন্ত্রীরা ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের দাবির প্রতি দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে ইরান ইস্যু, পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্ব নেতাদের সরব উপস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য সংকটই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এছাড়া এই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রপ্রধানদের সাথে আঞ্চলিক নেতাদের কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। গাজা নিয়েও তিন দেশের নেতাদের বক্তব্যে উদ্বেগ উঠে আসে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০