পাবনার চাটমোহর উপজেলার কাটেঙ্গা এলাকায় অবস্থিত ভাঙ্গা মসজিদের পাশের তিন মাথার মোড়ে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু অস্বাভাবিক ঘটনার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর দাবি, গত কয়েকদিন ধরে ওই সড়কে অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে রাতে যাতায়াতের সময় সাপ, বিড়ালসহ বিভিন্ন বস্তুর উপস্থিতি দেখা যায়, যা চোখের সামনেই মুহূর্তের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যায়। পুকুরে অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে এক ব্যক্তি পড়ে যাওয়ার ঘটনাও গ্রামবাসীকে আতঙ্কিত করে তুলেছে; যদিও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, কয়েক দিন আগে রাতে তিন রাস্তার মোড়ের পাশের একটি পুকুরে এক ব্যক্তিকে কোনো অজ্ঞাত বস্তু ফেলে দেয়। তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে গিয়ে তাকে পুকুর থেকে উদ্ধার করেন।
এই রহস্যময় পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় গ্রামের মুরুব্বি ও সাধারণ মানুষ একত্রিত হয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ইসমাইল নামের এক গ্রামবাসী জানান, নিরাপত্তার জন্য সম্মিলিতভাবে চাল-ডাল সংগ্রহ করে শনিবার মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। সকাল থেকে রান্নার প্রস্তুতি শেষে সন্ধ্যার দিকে প্রায় ৬০০ নারী, পুরুষ ও শিশু এতে অংশগ্রহণ করেন এবং প্রার্থনা শেষে তবারক গ্রহণ করেন। ইসমাইলের মতে, ভূত না থাকলেও জ্বীনের অস্তিত্বের সম্ভাবনা থেকেই এই ধর্মীয় আয়োজনের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা হয়েছে। এসব ঘটনাকে ভূত বা জ্বীনের কর্মকাণ্ড বলে মনে করছেন এলাকাবাসীর কেউ কেউ।
এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকে তা নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ও হাস্যরসাত্মক ভিডিও তৈরি করছেন, যা বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এই ধরণের অতিপ্রাকৃত দাবির বিষয়ে আলেমদের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। মুফতি মোহাম্মদ মফিজ উদ্দিন স্পষ্ট করেছেন যে, ভূতের কোনো অস্তিত্ব নেই। তিনি উল্লেখ করেন, বদজ্বীনের প্রভাব থাকতে পারে, যা থেকে সুরক্ষার জন্য পবিত্র কোরআনে নির্দিষ্ট দোয়া ও আমলের নির্দেশনা রয়েছে।





