
বাংলা চলচ্চিত্রের রোমান্টিক ধারার অবিসংবাদিত নায়ক উত্তম কুমার। পর্দায় অসংখ্য নায়িকার বিপরীতে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। তবে পর্দার বাইরের বাস্তব জীবনে তার হৃদয়ের একমাত্র অধিকারিণী ছিলেন গৌরী চ্যাটার্জি। তারকা হিসেবে খ্যাতি পাওয়ার অনেক আগেই এই প্রেমের সূচনা হয়েছিল। প্রিয় মানুষটিকে পাওয়ার জন্য উত্তম কুমারকে যে পরিমাণ পাগলামি ও লড়াই করতে হয়েছে, তা যেন কোনো সিনেমার গল্পের চেয়ে কম নয়। গত শতকের চল্লিশের দশকের সেই স্মৃতিবিজড়িত দিনগুলোতে ফিরে তাকালে দেখা যায়, উত্তম তখনো অভিনয় জগতে পা রাখেননি। পোর্ট কমিশনার্স অফিসের ক্যাশ ডিপার্টমেন্টে সাধারণ চাকরি করতেন তিনি।
একদিন অফিস থেকে ফিরে বাড়ির সদর দরজায় জ্যাঠাতো বোন অন্নপূর্ণার সঙ্গে এক সুশ্রী তরুণীকে দেখে মুগ্ধ হন উত্তম। প্রথম দেখাতেই ভালো লেগে যায় তাকে। সেই তরুণীই ছিলেন গৌরী। অন্নপূর্ণার কাছে উত্তম জানতে পারেন, মেয়েটির নাম গৌরী রানী গাঙ্গুলি এবং তার বাড়ি অ্যার্স্টন ও ল্যঅন্সডাউন রোডের মুখে। গৌরীর অভিজাত পরিবারের পরিচয় জেনে উত্তম শুরুতে কিছুটা দমে গিয়েছিলেন। নিজের মনেই ভেবেছিলেন, গৌরীর সঙ্গে তার সম্পর্কের সমীকরণ মেলানো কঠিন। কিন্তু মনের টান কি আর বাধা মানে? অন্নপূর্ণার কাছেই উত্তম জানতে পারেন, গৌরী গান ভালোবাসেন এবং একটি গানের স্কুলে তাদের পরিচয় হয়েছে।
উত্তম কুমার মরিয়া হয়ে ওঠেন গৌরীর সঙ্গে কথা বলার জন্য। একদিন অন্নপূর্ণার সঙ্গে গৌরী তাদের বাড়িতে এলে উত্তম হারমোনিয়াম নিয়ে গান গাইতে শুরু করেন। কিন্তু গৌরী কোনো সাড়া না দিয়েই চলে যান। হতাশ উত্তমকে অন্নপূর্ণা পরে জানান, গৌরী তার গানের প্রশংসা করেছেন এবং দেখা করতে চেয়েছেন। তবে গৌরীর সঙ্গে দেখা করাটা সহজ ছিল না। স্কুলের সামনে গিয়েও দারোয়ানের কড়াকড়িতে কথা বলার সুযোগ পাননি উত্তম। শেষ পর্যন্ত দারোয়ানকে ফাঁকি দিয়ে গৌরী নিজেই উত্তমকে বলেছিলেন, তুমি বাড়ি যাও, আমি দেখা করব তোমাদের বাড়িতে। এভাবেই শুরু হয় তাদের মন দেওয়া-নেওয়া।
একদিকে প্রেমের এই নতুন অধ্যায়, অন্যদিকে সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ—উত্তমের জীবনে তখন যেন ভাগ্যের চাকা ঘুরতে শুরু করেছে। খবরটি পাওয়ার পর উত্তম সরাসরি গৌরীর কাছে ছুটে যান। তিনি জানতে চান, আমি সিনেমায় নামছি, তোমার মত কী গৌরী? গৌরী সহজভাবে উত্তর দেন, বেশ তো, এতে আমার আবার মতামত কী? সুযোগ বুঝে উত্তম নিজের মনের কথা প্রকাশ করে বলেন, গৌরী, বিশ্বাস করো, আমি তোমাকে ভালোবাসি। আর ভালোবাসি বলেই তোমার মতামত আমার একান্ত দরকার। উত্তরে গৌরী হাসতে হাসতেই বলেছিলেন, তুমি সিনেমায় নামলে আমি খুশি হব বেশি।
উত্তমের প্রথম সিনেমা ‘দৃষ্টিদান’ মুক্তি পাওয়ার পর গৌরী তার দাদির সঙ্গে সিনেমা হলে গিয়ে ছবিটি দেখেন এবং দাদির কাছে উত্তমকে পছন্দ করার কথা স্বীকার করেন। কিন্তু প্রেমের খবর বাড়িতে জানাজানি হলে গৌরীর পরিবার তার ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে এবং অন্যত্র বিয়ের তোড়জোড় শুরু করে। কয়েক বছর ধরে চলা এই টানাপোড়েন এবং ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে সিনেমার ব্যর্থতায় উত্তম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে গৌরীও তার ভালোবাসার মানুষকে হারাতে রাজি ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত গৌরী নিজেই উত্তমের বাড়িতে ছুটে আসেন। এরপর উত্তম তাকে নিয়ে গৌরীর বাবার সামনে গিয়ে দাঁড়ান। দীর্ঘ বাগবিতণ্ডার পর অবশেষে গৌরীর বাবা তাদের সম্পর্ক মেনে নেন এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পরিণয় পায় তাদের ভালোবাসা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ” দুষ্টুমির ছলে তার বোন পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, “কে বল দিকিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পর্দায় অসংখ্য নায়িকার সঙ্গে জুটি বেঁধে উপহার দিয়েছেন প্রেমাখ্যান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার প্রেমে হাবুডুবু খাওয়া নারীর সংখ্যা কম নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ক্ষেত্রে উত্তম ব্যর্থ প্রেমিক নন, বরং প্রিয় মানুষটিকে নিজের করেই পেয়েছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে গৌরীকে পেতে পাগলামিও কম করেননি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চলুন, স্মৃতির পাতা উল্টে ফিরে যাই গত শতকের চল্লিশের দশকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাকিটা সময় অভিনয়ের স্বপ্নে বিভোর থাকেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সুশ্রী মেয়েটিকে দেখার পর কেটে যায় কয়েক দিন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০