গাজীপুরের কাপাসিয়ার বাসিন্দা দিনমজুর বাবুল শেখ এক অসাধারণ মানবিক নজির স্থাপন করেছেন। বৃষ্টির দিনে সন্তান কোলে এক অসচ্ছল মায়ের অসহায়ত্ব দেখে তিনি গভীরভাবে ব্যথিত হন এবং সেই থেকেই মানুষের কল্যাণে কাজ করার অনুপ্রেরণা পান। নিজের সংসারের টানাপোড়েন এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও তিনি থেমে থাকেননি। কষ্টার্জিত সামান্য অর্থ ব্যয় করে বাঁশ, কাঠ, চাটাই ও পলিথিন দিয়ে তিনি এখন পর্যন্ত ১১টি যাত্রীছাউনি এবং একটি শৌচাগার নির্মাণ করেছেন। রোদ ও বৃষ্টির দিনে শত শত পথচারী এখন এসব ছাউনিতে একটু বিশ্রামের সুযোগ পাচ্ছেন, যা তার নিভৃত প্রচেষ্টারই ফসল। স্থানীয় পর্যায়ে অনেকের বিরূপ মন্তব্য সত্ত্বেও তিনি জনস্বার্থে এই কাজ চালিয়ে গেছেন।
বাবুল শেখের এই মহতী উদ্যোগ ব্যক্তিগত পর্যায়ে অত্যন্ত প্রশংসনীয় হলেও এটি আমাদের সরকারি সেবা খাতের করুণ চিত্রও ফুটিয়ে তুলেছে। যাত্রীছাউনি বা শৌচাগারের মতো প্রাথমিক অবকাঠামো তৈরির দায়িত্ব সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) কিংবা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি)। কিন্তু সরকারি প্রকল্পের ভিড়ে সাধারণ যাত্রীদের এই মৌলিক প্রয়োজনের বিষয়টি প্রায়ই উপেক্ষিত থেকে যায়। প্রশ্ন থেকেই যায়, যে দায়িত্ব সরকারি প্রতিষ্ঠানের পালন করার কথা ছিল, তা কেন একজন দরিদ্র দিনমজুরের কাঁধে এসে পড়ল? জনসেবা ও উন্নয়নের জন্য বিপুল অর্থের চেয়েও যে সদিচ্ছা বড়, বাবুল শেখ তা নতুন করে শিখিয়েছেন।
তার তৈরি এসব বাঁশ-চাটাইয়ের ছাউনির অর্থনৈতিক মূল্য কম হলেও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর গুরুত্ব অপরিসীম। স্থানীয় প্রশাসন বাবুল শেখের কাজের প্রশংসা করলেও এখন সময় এসেছে সরকারিভাবে দায়িত্ব নেওয়ার। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এই অস্থায়ী ছাউনিগুলোকে স্থায়ী রূপ দেওয়া এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা। শুধু কাপাসিয়া নয়, দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও আঞ্চলিক সড়কের পাশে যাত্রীদের বিশ্রাম ও জরুরি প্রয়োজনে শৌচাগার তৈরির কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। যাতে কোনো বাবুল শেখকে আর ব্যক্তিগত খরচে বা কষ্ট করে পলিথিন টাঙিয়ে অসহায় মানুষের কষ্ট লাঘবের দায়িত্ব নিতে না হয়।






