
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত জাতীয় আকাঙ্ক্ষা ও গণভোটের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর, বিশেষ করে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠনের নেতারা। শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘গণভোট ও জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা: উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণের আলোকে গণভোটের নৈতিক ও সাংবিধানিক ভিত্তি’ শীর্ষক এক জাতীয় সেমিনারে বক্তারা অভিযোগ করেন, কিছু ব্যক্তির ব্যক্তিগত ‘ইগো’ বা অহংবোধের কারণে গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো আজ অবহেলিত। ‘গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরাম’ ব্যানারে ভয়েস ফর রিফর্ম, মঞ্চ ২৪, আধিপত্যবাদবিরোধী নাগরিক সমাজ ও তারুণ্যের জুলাই ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম সেমিনারে বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপি বারবার জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও গত ছয় মাসে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। তিনি অভিযোগ করেন, একজন ব্যক্তির ইগোর কারণে গোটা জাতি আজ সংকটের মুখে। নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, একজন ব্যক্তি সংসদের সব ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছেন এবং বাহাত্তরের সংবিধানের বাইরে যেতে নারাজ। বিরোধী দলও এই পরিস্থিতির যৌক্তিক জবাব দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সামরিক সরকারের কর্মকাণ্ড বৈধতা দিয়েছিলেন, যা পরে আদালত অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। বর্তমান সরকারপ্রধানের সামনে রাষ্ট্রনায়ক হওয়ার সুযোগ থাকলেও দলীয় সংকীর্ণতা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে তা সম্ভব হবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।
সেমিনারে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম অল্টারনেটিভসের সংগঠক তাজনূভা জাবীন বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কাছে বর্তমান সংবিধানের গুরুত্ব গৌণ। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ৭০ শতাংশ জনগণ মৌলিক সংস্কারের পক্ষে ম্যান্ডেট দিলেও এখন গণভোটের বিষয়টি জনগণের এজেন্ডা থেকে সরে গিয়ে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের এজেন্ডায় পরিণত হয়েছে। তিনি মনে করেন, জুলাইয়ের পক্ষের শক্তিগুলোর মধ্যে বিভাজনই এই পরিস্থিতির সুযোগ করে দিয়েছে।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৪ সালের মতো বিতর্কিত হতে পারে। তিনি গুম বন্ধ, বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, অতীতে দুবার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে বিএনপি নিজের অস্তিত্ব সংকটে ফেলেছিল, এবার তাদের শেষ সুযোগ।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, রাজনৈতিক সংকটের সমাধান সংবিধানের পাতায় নয়, বরং রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই করতে হবে। অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানিম হোসেন জোর দিয়ে বলেন, জনগণ প্রথাগত সংশোধনীর জন্য নয়, বরং মৌলিক পরিবর্তনের জন্য ম্যান্ডেট দিয়েছে। তাই জনগণের ম্যান্ডেটকে সম্মান জানানো সরকারের দায়িত্ব।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম অবশ্য কিছুটা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জুলাই ও গণভোটকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা মূলত আওয়ামী লীগের বয়ান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জনগণ যে সার্বভৌম ক্ষমতা ফিরে পেয়েছে, তা থেকে তারা বিচ্যুত হয়নি। তবে সাবেক রাষ্ট্রদূত সাকিব আলী সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ চরম অধঃপতনের দিকে যাচ্ছে এবং মানুষ বর্তমানে একটি বিস্ফোরণোন্মুখ পরিস্থিতিতে রয়েছে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী। ভয়েস ফর রিফর্মের নেতা ফাহিম মাশরুরের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন মানবাধিকারকর্মী রুবি আমাতুল্লাহ, গণবিপ্লবী উদ্যোগের নেতা আরিফ সোহেল এবং জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গণভোটে ৭০ শতাংশ জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেই জাতীয় আকাঙ্ক্ষার বিপক্ষে দাঁড়াচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জুলাই বিপ্লবের প্রতি সুবিচারের স্বার্থে সংবিধানকে নতুন রূপে প্রণয়ন করার দাবির পাশাপাশি জুলাই সনদ ও গণভোট অবশ্যই বাস্তবায়ন করার ওপর জোর দেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি কি খালেদা জিয়ার চেয়ে বড় বিএনপি হয়ে গেছেন?’ এ ক্ষেত্রে বিরোধী দলও সংসদে যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারছে না উল্লেখ করে তাজুল বলেন, একজন ব্যক্তি সংবিধান, সংবিধান বলে যে অবস্থা তৈরি করেছেন, সেটার যুক্তিপূর্ণ জবাব দিয়ে তা প্রত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৫ এপ্রিল পর্যন্ত সামরিক সরকারের সব কর্মকাণ্ড বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এখন জুলাই বিপ্লব–পরবর্তী সময়ে যা যা হলো, তার জন্য সরকার কী আইনি সমাধান বের করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ইগোর কাছে পুরো জাতিকে হারিয়ে দেওয়াটা ভালো বিষয় নয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০