কক্সবাজারে সাবেক ছাত্রদল নেতা অ্যাডভোকেট আল আমিনের বিরুদ্ধে রাতের আঁধারে আবাসিক রিসোর্ট দখলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শহরে জমি দখল সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের নিয়ে কটূক্তি করে স্ট্যাটাস দেওয়ার মাত্র একদিনের মধ্যেই এই দখলের ঘটনাটি সামনে এলো। এ ঘটনায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে আল আমিনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য বদরুল হাসান মিল্কীও রয়েছেন।
সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে কক্সবাজার শহরের লাইট হাউজ এলাকায় এই দখলের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রিসোর্ট মালিকের স্ত্রী ইসরাত জাহান চৌধুরী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাবেক ছাত্রদল নেতা আল আমিনের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি গভীর রাতে ‘নকশী রিসোর্ট’ নামের আবাসিক হোটেলটি জোরপূর্বক দখল করে নেন।
ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে মাহফুজ শাকিল (৪০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত মাহফুজ শাকিল জেলার উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং এলাকার শামশুদ্দিনের ছেলে এবং তিনি মামলার ২ নম্বর আসামি। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বাদী ইসরাত জাহান চৌধুরীর দাবি, আসামিরা তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। চাঁদা না পেয়ে তারা প্রথমে তার মালিকানাধীন মিল্কী রিসোর্টের চারটি ফ্ল্যাট ও নিচতলার ৮০০ বর্গফুটের একটি দোকান দখলে নেন। এরপর রাত ৩টার দিকে তারা লাইট হাউজ এলাকায় অবস্থিত ‘নকশী’ রিসোর্টটিও দখল করে নেন।
রিসোর্টের মালিক আব্দুর রশিদ চৌধুরী জানিয়েছেন, জামায়াত নেতা মাওলানা আলমগীরের ছেলে আল আমিনকে তিনি মিল্কী রিসোর্টের চারটি ফ্ল্যাট ও একটি দোকান ভাড়া দিয়েছিলেন। কিন্তু আল আমিন দীর্ঘ সময় ধরে ভাড়া পরিশোধ না করে ফ্ল্যাট ও দোকানগুলো অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। আব্দুর রশিদের অভিযোগ, ফ্ল্যাট ও দোকান দখল করে রাখার পাশাপাশি আল আমিন তাকে ছিনতাই ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন।
তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অ্যাডভোকেট আল আমিন। তিনি আব্দুর রশিদকে একজন প্রতারক হিসেবে অভিহিত করে দাবি করেন যে, নকশী রিসোর্টের জমির প্রকৃত মালিক তিনি নন। তার ভাষ্যমতে, ওই রিসোর্ট ও জমির মালিক ছিলেন আবছার উদ্দিন চৌধুরী। তিনি মারা যাওয়ার পর আব্দুর রশিদ ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে রিসোর্টটি নিজের দখলে নিয়েছেন। আল আমিন আরও জানান, আব্দুর রশিদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, কক্সবাজার শহরে জমি দখল নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর আল আমিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের নিয়ে একটি আপত্তিকর স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। ওই স্ট্যাটাসে তিনি কক্সবাজারের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের নিয়ে কটূক্তি করেন এবং ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার বিনিময়ে সংবাদ প্রকাশের ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলেন। এই ঘটনার একদিন পরেই রিসোর্ট দখলের মতো চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি উঠে এলো।





