বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে কালি লেপনের ঘটনার প্রতিবাদে কক্সবাজারে গান ও কবিতার আসর বসিয়েছেন স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীরা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘শতকণ্ঠে রবীন্দ্র-নজরুল’ শিরোনামে এই প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশের আয়োজন করে জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সম্মিলিত মোট।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর শিল্পীরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সংকোচের বিহ্বলতা নিজেরই অপমান, সংকটের কল্পনাতে হইয়ো না ম্রিয়মাণ’ এবং কাজী নজরুল ইসলামের ‘দাও শৌর্য, দাও ধৈর্য, হে উদার নাথ, দাও প্রাণ’ গান দুটি পরিবেশন করেন। একই সঙ্গে ছিল কবিতা আবৃত্তির আয়োজন।
আয়োজকদের মতে, রবিঠাকুরের ছবিতে কালি লেপে তার সৃষ্টিশীলতাকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়; বরং এমন অপচেষ্টায় জড়িতদের সংকীর্ণতা ও অজ্ঞতাই ফুটে ওঠে। এ ধরনের অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন।
ঘটনার সমালোচনা করে ঝিনুকমালা খেলাঘর আসরের সভাপতি আশরাফুল হুদা সিদ্দিকী জামশেদ বলেন, বিশ্বকবির ছবিতে কালি দিলে তার কিছু যায় আসে না, এটি দুষ্কৃতকারীদের নিজেদের জন্য অপমানজনক। সমাজ ও দেশকে অস্থিতিশীল করতেই এসব করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, যারা রবীন্দ্রনাথকে ভালোবাসে, তারা সুরের শক্তিতেই এই অসুরত্বকে প্রতিহত করবে।
উদীচী কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক সৌরভ দেব বলেন, অভিযুক্তদের শাস্তি বা কারাভোগের চেয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য পড়ার সুযোগ দেওয়া উচিত, কারণ না পড়েই তারা এমনটি করেছে। সৃষ্টিশীল বিষয়কে কাঁটাতারের সীমান্তে বাঁধা যায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা সাহিত্য-সংস্কৃতিকে গ্রহণ করতে পারে না, এটি তাদের নিজেদের সীমাবদ্ধতা।
সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক মনির মোবারক মন্তব্য করেন, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিগুলো বিভিন্ন সময় ভিন্ন কৌশলে ও অজ্ঞতা নিয়ে হাজির হয়। তাই সুরের শক্তির মাধ্যমেই এই প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
জেলা খেলাঘরের সভাপতি সুবিমল পাল পান্না বলেন, মননে সাম্প্রদায়িকতা বাস করলে মানুষ এমন কাজ করে, তবে কালি লেপে কোনো সৃষ্টিকে ধ্বংস করা যায় না।
সংস্কৃতিকর্মী কানন বড়ুয়া বিশাল জানান, কবিগুরুকে ধারণ করতে না পারা কারো ব্যক্তিগত ব্যর্থতা হতে পারে, কিন্তু সার্বিকভাবে তা গৌণ। মূলত রবীন্দ্র-নজরুলের গান ও কবিতার মাধ্যমে সকল অশুভ ও অসহিষ্ণু কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বার্তা দেওয়া ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।






