
কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পুড়ে যাওয়া দেহাবশেষের নমুনা সংগ্রহ করে স্বজনদের ডিএনএর সঙ্গে মিলিয়ে এই পরিচয় নিশ্চিত করেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমন ঘোষ জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন একই পরিবারের সদস্য। তারা হলেন ঢাকার শ্যামলীর গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাদের দুই মেয়ে রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানা (৬)। এছাড়া অপর পরিবারের ছয় সদস্যের পরিচয় মিলেছে। তারা হলেন মৌলিতা মেহজাবিন আলভি (১৯), লায়লা জাহান নাবিলা (২৫), ইসরাত জাহান মালিহা (২৭), ফারিয়া কবির (৩৩), তার ছয় বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ফাইজান নূর এবং ফারিয়ার ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামি (২৪)। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কেও কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকে অবহিত করবে। তারা ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকায় বসবাস করতেন।
নিহতদের মধ্যে নাফিস তেহামি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। মৌলিতা মেহজাবিন আলভি ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে পপুলেশন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ সায়েন্সেস বিষয়ে এবং লায়লা জাহান নাবিলা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে অধ্যয়নরত ছিলেন।
তবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর নিখোঁজ থাকা স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার (২৭) কোনো সন্ধান এখনো মেলেনি। তদন্ত কর্মকর্তা রিমন ঘোষ জানান, উদ্ধার হওয়া ১০ জনের ডিএনএ নমুনার সাথে মুক্তার নমুনার কোনো মিল পাওয়া যায়নি। মুক্তা ঢাকার আশুলিয়ার স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন এবং দুই বান্ধবীর সাথে কক্সবাজারে ভ্রমণে এসেছিলেন। তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা এবং বাবার নাম মোস্তফা কামাল। অগ্নিকাণ্ডের পর ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজের তালিকায় ছিলেন ১১ জন। ফলে একজনের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
এদিকে, এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে গাফিলতির অভিযোগে উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদারকে তলব করেছেন আদালত।
গত সোমবার বিকেলে কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসাদ উদ্দিন মো. আসিফ এ আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, রিসোর্টে ১০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় জামিনযোগ্য ধারায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। কেন গুরুতর অপরাধের ধারা যুক্ত করা হয়নি এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না কেন, সে বিষয়ে আগামী বুধবার (২৯ অক্টোবর) আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে উখিয়ার আমলি আদালতের বিচারক ও কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসাদ উদ্দিন মো. আসিফ এ আদেশ দেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০