
দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনেটে তথ্য অনুসন্ধানের প্রধান ভরসা হিসেবে গুগল একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রাখলেও সাম্প্রতিক এআই বিপ্লব সেই ধারায় পরিবর্তন এনেছে।
বর্তমানে গুগলের এআইভিত্তিক সার্চে কোনো তথ্য খুঁজলে শুরুতেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি একটি সারসংক্ষেপ বা এআই সামারি দেখা যায়।
এই প্রযুক্তির ফলে ব্যবহারকারীরা সহজেই তাদের কাঙ্ক্ষিত তথ্য পেয়ে যাচ্ছেন, ফলে গুগলের ‘স্পনসর্ড’ বা বিজ্ঞাপনী লিংকগুলোতে ক্লিক করার প্রয়োজনীয়তা কমে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞাপনী আয়ের ওপর। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, তথ্যগুলো এতটাই বিস্তারিত ও কার্যকর যে, গুগলের ‘স্পনসর্ড’ লিংকগুলোতে ক্লিক করে বাড়তি তথ্য নেওয়ার প্রয়োজন হয় না।
এই পরিবর্তন ও ব্যবসায়িক চাপের মুখে পুঁজিবাজারে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, তাদের বাজারমূল্য প্রায় ৫১০ বিলিয়ন ডলার কমেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬৩ লাখ কোটি টাকার সমান। প্রযুক্তির বিশ্বে গুগল বরাবরই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ধারণাকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। বর্তমানে কিছু স্বল্পমেয়াদি ব্যবসায়িক ক্ষতি মেনে নিলেও গুগল তাদের এআই সার্চের অগ্রগতি নিয়ে বেশ আশাবাদী।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্যমতে, এ ক্ষেত্রে তারা সরাসরি নিজের ব্যবসার ক্ষতি মেনে নিতে রাজি আছে, কিন্তু অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে এই জায়গাটি দখল করতে দিতে চায় না। অ্যালফাবেটের প্রতিষ্ঠা ও ব্যবসায়িক দর্শন হলো দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনাকে প্রাধান্য দেওয়া, এমনকি তাতে সাময়িক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হলেও। প্রতিষ্ঠানের মতে, প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এই দূরদর্শী বিনিয়োগই তাদের বড় সম্পদ। মাহফুজ আনামের কলাম / কেবলমাত্র নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারে।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত তিন মাসের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যালফাবেট গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মোট আয়ে ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এই সময়ে তাদের আয় দাঁড়িয়েছে ১২৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে। আর্থিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও সার্চ বাণিজ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব গুগলের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
বর্তমান সময়ে গুগলের এই আধিপত্যের বিকল্প হিসেবে বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষ চ্যাটজিপিটি ও ক্লডের মতো উন্নত এআই প্রোগ্রাম ব্যবহার করছেন। সার্চ ইঞ্জিনের বাজারে এই নতুন প্রতিযোগীরা গুগলকে চাপে রেখেছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহারিক দিকগুলো এখন বহুমুখী হয়ে উঠছে, যেমনটা দেখা গেছে ২০ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া চিত্রকর্ম খুঁজে পেতে পুলিশের এআই ব্যবহারের ঘটনায়। এআইয়ের সাহায্যে ২০ বছর আগে হারানো চিত্রকর্ম খুঁজে পেল পুলিশ।
অন্যদিকে প্রযুক্তি বিশ্বে অন্য কোম্পানিগুলোও নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। যেমন, আইফোন ডুয়োর স্ক্রিনের সমস্যা সমাধানে অ্যাপল ডিভাইস বদলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রযুক্তি খাতের বাইরেও অর্থনৈতিক নানা প্রকল্প চলমান রয়েছে, যার মধ্যে সরকারি উদ্যোগে পাটশিল্প পুনরুজ্জীবনে ২ হাজার ৩২০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন আছে। এছাড়া ময়মনসিংহের বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে নতুন সঞ্চালন লাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাটশিল্প পুনরুজ্জীবনে ২৩২০ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব সরকারের।
প্রযুক্তির এই বিবর্তন শুধু সার্চ ইঞ্জিনেই সীমাবদ্ধ নেই। দৈনন্দিন জীবনে রোবটিক্স বা অ্যাপ্লিকেশনের ব্যবহারে এসেছে বৈচিত্র্য, যেমন হাঁসের ঢঙে চলা ‘মাইক্রোডাক’ রোবট বা বাংলাদেশে কিনেমাস্টারে ওয়াটারমার্ক ছাড়া ভিডিও এডিটের সুবিধা। তবে ওটিপি প্রতারণার মতো ডিজিটাল ঝুঁকি থেকে বাঁচতে সাধারণ ব্যবহারকারীদের সচেতন থাকার পরামর্শও বারবার উঠে আসছে। ওটিপি প্রতারণা থেকে বাঁচতে যে ভুলগুলো কখনো করবেন না।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০