
ইসরায়েলের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে সরকার বদল হলে পশ্চিমতীরের ফিলিস্তিনিদের জীবনযাত্রায় আদতে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা। অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতা, জমি দখল এবং চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধের বেড়াজালে থাকা প্রায় ৩৪ লাখ ফিলিস্তিনি এখন এই প্রশ্নের মুখোমুখি। ঢামেক হাসপাতালে দ্বিতীয় দিনে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের ধর্মঘট, দুর্ভোগে রোগীরা। মিরপুর টেস্ট / ৯৯ রানে থাকা সাদমানকে অপেক্ষায় রাখল আলোকস্বল্পতা। ফলে সরকার গঠনে জোটের সমীকরণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে যাচ্ছে। ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনে প্রয়োজন ৬১টি আসন। বিরোধীরা আরব দল জয়েন্ট লিস্ট ও ইউনাইটেড আরব লিস্টের (রাম) সঙ্গে জোট গঠনের বিরোধিতা করলেও শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনে তাদের সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে। ফিলিস্তিনিদের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হবে। এতে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে ইউরোপের নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার আশঙ্কাও করছেন ফিলিস্তিনিদের একাংশ। আমাদের জীবনে কি কোনো পরিবর্তন এসেছে?’।
নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা চার দলের জোট। রমজানে স্বাভাবিক থাকবে নিত্যপণ্যের সরবরাহ, বাড়ছে না ভোজ্য তেলের দাম: বাণিজ্যমন্ত্রী। এশিয়া কাপ আর্চারি: ইরাকে বন্যা-শ্রীপর্ণা-মনির সোনা জয়। নির্বাচনে হেরে গেলে কী করবেন নেতানিয়াহু, কেন বাড়ছে যুদ্ধের শঙ্কা।
এই জোটে রয়েছে ইয়াশার, ডেমোক্র্যাটস, ইসরায়েল বেইতেনু ও টুগেদার অ্যালায়েন্স।
বুথফেরত জরিপে কোনো পক্ষেরই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার ইঙ্গিত মেলেনি।
এর আগে ২৮ অক্টোবর ব্রিটিশ গণমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার বিষয়ে নেতানিয়াহুর পূর্বজ্ঞান ও দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে জনঅসন্তোষ দানা বেঁধেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারে যেই দলই আসুক, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্বের নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা ক্ষীণ। কাতারভিত্তিক দ্য নিউ আরবের তথ্যমতে, অধিকৃত পশ্চিমতীর ও পূর্ব জেরুজালেমে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার ইহুদি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছেন, যা ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭ থেকে ৮ শতাংশ। আন্তর্জাতিক আইনে এসব বসতি অবৈধ হলেও দেশটির রাজনীতিতে তাদের শক্তিশালী প্রভাব রয়েছে। ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৯ মৃত্যু, মোট ৪০৯। বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, নেতানিয়াহু ক্ষমতা হারালে দখলকৃত পশ্চিমতীরের যুদ্ধপরিস্থিতি থেকে কিছুটা মুক্তি হতে পারে এমন আশা রয়েছে। নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট: লৌহ মুষ্টির এপিঠ-ওপিঠ। মুহান্নাদ কাফেশার মতে, তাদের ভোটের মাধ্যমে পশ্চিমতীরের মানুষের দৈনন্দিন দুর্ভোগ কিছুটা কমানোর আশা রয়েছে। ‘আমরা নরকে বাস করছি।
সাবেক কূটনীতিক শায়েল বেন-এফ্রাইম জানিয়েছেন, ইসরায়েলের বামপন্থি দলগুলোও অনেক সময় ডানপন্থিদের চেয়ে বেশি বসতি সম্প্রসারণে আগ্রহী থাকে। তাই বিরোধীরা ক্ষমতায় এলেও পশ্চিমতীরে নির্মাণকাজ বৃদ্ধির শঙ্কা থেকেই যায়। এদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর পশ্চিমতীরে প্রতিদিন গড়ে ছয়টি করে হামলা চালিয়েছেন অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা। জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর এই হামলা আরও তীব্র হয়।
সবশেষ ২৩ অক্টোবর ইসরায়েলের একটি চেকপোস্টে দুই ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীর গুলির ঘটনার পর ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির পশ্চিমতীরে ফিলিস্তিনিদের গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দেন। এরপর শুরু হওয়া অভিযানে অন্তত ৪০০ পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, নির্বাচনের আগে জনসমর্থন বাড়াতে নেতানিয়াহু ১৯৬৭ সালের পর সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। গত ২৩ অক্টোবর আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৩ অক্টোবর ইসরায়েলের একটি চেকপোস্টে ২ ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীর গুলির ঘটনার পর দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির পশ্চিমতীরে ফিলিস্তিনিদের গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ করা। ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে দ্য নিউ আরবের তথ্য অনুযায়ী, এতে এ পর্যন্ত ৪০০ পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এরপর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হামলাকারীদের এলাকার বাড়িঘর ভাঙতে শুরু করে।
নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইয়াশার পার্টির গাদি আইজেনকোট বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দিলেও তিনি ফিলিস্তিন-ইসরায়েল ইস্যুতে দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ঘোর বিরোধী। ফিলিস্তিনি সাংবাদিক মুহান্নাদ কাফেশা দ্য নিউ আরবকে বলেন, যে সরকারই আসুক, তারা ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্র দেবে না। কাফেশার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আরব দলগুলো যদি ১৫ আসন পায়, তবে তারা নেতানিয়াহুকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে বড় ভূমিকা পালন করতে পারবে। তবে ইসরায়েলের বিরোধীদলগুলোর অবস্থান বিশ্লেষণ করে কেউ কেউ বলছেন—স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা কিংবা পশ্চিমতীরে ইসরায়েলের দখলদারত্বের অবসানের সম্ভাবনা এখনো ক্ষীণ। আমরা শুধু একটু স্বস্তিতে শ্বাস নিতে চাই,’ বলেন কাফেশা। বিশ্লেষণ / লুলার সামনে অর্থনীতির যে ৫ চ্যালেঞ্জ।
বেথলেহেমের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের পরিচালক মাজিন কুমসিয়েহ এই নির্বাচনকে ফ্যাসিস্ট ও চরম ফ্যাসিস্ট শক্তির মধ্যকার লড়াই বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, গত তিন বছরে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এক লাখের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ব্যাপক অনাস্থা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষক বেন-এফ্রাইমের মতে, সরকার পরিবর্তন হলে হয়তো জাতিগত নিধনের তীব্রতা সাময়িকভাবে কিছুটা কমতে পারে, তবে তা মূলত পশ্চিমা বিশ্বের কাছে নিজেদের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের কৌশল মাত্র।
সামগ্রিকভাবে, দখলদারিত্ব ও স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রশ্নে ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ আপাতত নেই। সাধারণ ফিলিস্তিনিরা তাই কেবল দিনমজুরির মতো এক অনিশ্চিত ও শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ইসরায়েলের নাগরিকত্ব থাকা ফিলিস্তিনিরা ভোট দিতে পারেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০