
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সমন্বয় নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তারা তেহরানে ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন। সোমবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক তৎপরতা ও সৌদি আরবের ওপর চাপের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।
বৈঠক সম্পর্কে অবগত সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান দেশটির প্রতিনিধিত্ব করবেন। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধানও এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। তবে সৌদি সরকার, তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এই বৈঠকের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে রয়টার্স সৌদি সরকারের গণমাধ্যম কার্যালয়, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা এবং তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পায়নি।
গত সপ্তাহে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তেহরান সফর করেছিলেন। ওই সফরে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় যে, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। মিরপুরের উইকেট নিয়ে প্রশ্নে হাসিতে ফেটে পড়লেন স্যামি।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে আসা পাকিস্তান গত জুনে একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিচুক্তি স্থাপনে ভূমিকা রেখেছিল। তবে দুই দেশের নতুন করে সংঘাত শুরুর ফলে সেই চুক্তিটি টেকেনি। এদিকে হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং রোববারও সৌদি আরব এমন একটি হামলা প্রতিহত করেছে। তবে কয়েক সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও লড়াই শুরু হলে চুক্তিটি দ্রুত ভেঙে পড়ে।
চলতি মাসের শুরুতে রিয়াদে মক্কা চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর মন্ত্রী পর্যায়ের এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সৌদি আরবে সামরিক সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনের বিষয়ে দেশগুলো একমত হয়। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা এবং বৃহত্তর সংঘাতের কারণে সৌদি আরব বর্তমানে বেশ অস্বস্তিতে রয়েছে। বৃহত্তর এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সৌদি আরবও চাপের মুখে পড়েছে।
গত আগস্ট মাসে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
এই চুক্তির মূল কথা হলো—সদস্য কোনো দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।
চুক্তির পাঠ অনুযায়ী, কোনো দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা বা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অঙ্গীকার রয়েছে। পাকিস্তান ইতিমধ্যে চুক্তিটি অনুমোদন করেছে এবং তুরস্কের পার্লামেন্টে এটি অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। রয়টার্সের হাতে আসা চুক্তির পাঠ অনুযায়ী, এর প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সদস্য দেশগুলো একে অপরের আঞ্চলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব কিংবা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্তের প্রতি হুমকি দূর করতে ‘সব প্রয়োজনীয় উপায়’ ব্যবহার করবে।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলির মধ্যে পুলিশ প্রধানের ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত মন্তব্য, হামে ১২৩৩ জনের মৃত্যু (নতুন ৬ জনসহ) ও নরসিংদীতে নারীর কাছে ১৪০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার এবং গোপালগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ২৫ জনের গ্রেপ্তারের ঘটনাগুলো দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির দিকে নির্দেশ করছে। এছাড়া জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বারোপ করেছেন। সরকার অনুমতি দিলে পুলিশ ‘ক্রসফায়ার’ করবে: আইজিপি। হামের উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু, মোট ১২৩৩। বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা: আখতারুজ্জামানের জামিন নামঞ্জুর।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০