
তিন বছর পর আবারও ইতালির কোচ হিসেবে ডাগআউটে ফিরেছেন রবার্তো মানচিনি, তবে তার প্রত্যাবর্তনটা সুখকর হয়নি। উয়েফা নেশনস লীগের ম্যাচে রোমের স্তাদিও অলিম্পিকোয় বেলজিয়ামের কাছে ২-০ গোলে পরাজিত হয়েছে ইতালি। এই হারের পর ঘরের মাঠে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও কোচ মানচিনিকে সমর্থকদের দুয়োর সম্মুখীন হতে হয়েছে। দলটি টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর গত এপ্রিলে কোচ জেনারো গাত্তুসো ও ফেডারেশন সভাপতি গাব্রিয়েলে গ্রাভিনা পদত্যাগ করেছিলেন। এরপর নতুন কোচের খোঁজে পেপ গার্দিওলা, কার্লো আনচেলোত্তি ও আন্দ্রেয়া পিরলোর নাম আলোচনায় থাকলেও, শেষ পর্যন্ত ইতালিয়ান ফেডারেশন ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা মানচিনির ওপরই আস্থা রেখেছে। ২০২১ সালে ইতালিকে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জেতানো মানচিনি দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর বেশ উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, একটি বা দুটি বড় শিরোপা জেতার লক্ষ্যেই কাজ করছেন এবং চুক্তির মেয়াদের চেয়েও বেশি সময় থাকতে চান। ২০২৩ সালে যা হয়েছে তা বাদে, ভালো খেলা ও জেতাকেই প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই দুঃখিত। তাই আমি দুঃখিত, গত তিন বছরে যা কিছু হয়েছে তার জন্যও।
দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ২০২৩ সালে সৌদি আরবের আহ্বানে সাড়া দিয়ে হঠাৎ দল ছাড়ার জন্য মানচিনি প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এটি ছিল জীবনের ভালোবাসার মানুষ হারানোর মতো একটি ঘটনা এবং তার ওই ভুল করা উচিত হয়নি। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে উঠতে না পারার ক্ষত কাটিয়ে নেশনস লীগ দিয়ে নতুন করে পথচলা শুরু করতে চেয়েছিল ইতালি। কিন্তু বেলজিয়ামের বিপক্ষে লড়াইয়ে প্রথমার্ধে বেশ চাপে পড়েছিল দলটি। গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ ইতালির বড় পরাজয় থেকে বাঁচালেও ২০ মিনিটে গোল হজম করতে হয়। ইতালির অভিষেক খেলোয়াড় আলেসান্দ্রো রোমানোর ভুল পাসে কেভিন ডি ব্রুইনের সহায়তা থেকে গোল করে বেলজিয়ামকে এগিয়ে দেন মিকা গডটস। জাতীয় দলের জার্সিতে এটি ছিল তার প্রথম গোল। ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে দোদি লুকেবাকিও শক্তিশালী শটে ব্যবধান বাড়ালে ইতালির জয় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এরপরই দলের হাল ধরতে নতুন কোচের খোঁজ শুরু হয়। ইতালির অভিষেক হওয়া আলেসান্দ্রো রোমানোর ভুল পাস থেকে পাল্টা আক্রমণে ওঠে বেলজিয়াম, কেভিন ডি ব্রুইনের পাস পেয়ে তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দোন্নারুম্মাকে পরাস্ত করেন গড্টস।
ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়দের দুয়ো শোনার প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে মানচিনি বলেন, পরাজয়ের পর সমর্থকরা খুশি না থাকাটাই স্বাভাবিক এবং এমন পরিস্থিতি প্রত্যাশিত। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ৫৮ ম্যাচে ৩৮ জয় নিয়ে মানচিনির রেকর্ড বেশ উজ্জ্বল হলেও বর্তমানের নতুন অধ্যায়টি হতাশাজনক শুরু হয়েছে। এখন ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে আগামীকাল তুরস্কের বিপক্ষে মাঠে নামবে ইতালি। এরপর ফ্রান্সের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচ এবং নেশনস লীগের প্রথম পর্বে আবারও তুরস্কের মুখোমুখি হবে দলটি। নতুন করে তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া এই দলটির ওপর মানচিনি এখনো আস্থা রাখছেন, তবে মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে সমর্থকদের ক্ষোভ বর্তমানে বেশ স্পষ্ট। দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি ইতালি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০