
আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে বড় শাস্তির মুখে থাকা ম্যানচেস্টার সিটি অবনমিত হলেও আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লীগে খেলার সুযোগ পেতে পারে। ইংলিশ ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ নিয়ে ইতোমধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। চলতি মৌসুমে ক্লাবটি ইউরোপ সেরার এই টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। কারণ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী আসরে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। বিবিসি স্পোর্টসের তথ্য অনুযায়ী, ক্রীড়াগত পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে কোনো দল ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় জায়গা পেলে তাকে সরাসরি বাদ দেওয়ার কোনো স্বয়ংক্রিয় নিয়ম নেই।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে একটি স্বাধীন কমিশন আর্থিক অনিয়মের সব অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুয়া স্পনসরশিপ চুক্তির মাধ্যমে ক্লাবটির আয় প্রায় ৮৩০ মিলিয়ন পাউন্ড বেশি দেখানো হয়েছিল। এর পাশাপাশি প্রায় ৯০ মিলিয়ন পাউন্ডের ব্যয়ও গোপন রাখা হয়েছে। স্বাধীন কমিশনের মতে, এই অনিয়মগুলো না থাকলে ২০০৯-১০ থেকে শুরু করে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত টানা নয়টি মৌসুমে প্রিমিয়ার লীগের আর্থিক স্থায়িত্ব ও লাভের নিয়ম লঙ্ঘন করত সিটি।
তবে প্রথম থেকেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে ক্লাবটি। ম্যানচেস্টার সিটি এই পুরো ঘটনাটিকে প্রিমিয়ার লীগের একটি ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছে। গত সপ্তাহে তারা স্বাধীন কমিশনের রায়ের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে আপিলও করেছে। এই আপিলে হেরে গেলে ক্লাবটির বিরুদ্ধে পয়েন্ট কাটা, বড় অঙ্কের জরিমানা, দলবদলে নিষেধাজ্ঞা কিংবা প্রিমিয়ার লীগ থেকে সরাসরি বহিষ্কারের মতো কঠোর শাস্তি আসতে পারে। তবে পয়েন্ট কমানোর কারণে লীগে পিছিয়ে পড়লেও অন্য কোনো মাধ্যমে ইউরোপীয় আসরে খেলার সুযোগ অক্ষুণ্ণ থাকতে পারে।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় উয়েফার লাইসেন্স বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইউরোপীয় টুর্নামেন্টে অংশ নিতে হলে প্রতিটি ক্লাবের এই লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন লাইসেন্স প্রদান করলেও পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করে প্রিমিয়ার লীগ। সাধারণত লাইসেন্স দেওয়ার সময় ক্লাবের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থাই বেশি বিবেচনা করা হয়। অতীতের অনিয়মের শাস্তির কারণে সরাসরি লাইসেন্স বাতিলের কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। তবে বকেয়া পাওনা, ম্যাচ পাতানো কিংবা মাল্টি-ক্লাব মালিকানার সংঘাত থাকলে সমস্যা হতে পারে। ফলে সিটি শাস্তি পেলেও শুধুমাত্র পুরোনো আর্থিক অনিয়মের জেরে তাদের ইউরোপীয় লাইসেন্স আটকে দেওয়ার আইনি ভিত্তি পরিষ্কার নয়। অর্থাৎ ঘরোয়া ফুটবলে অবনমন বা বড় কোনো শাস্তি পেলেও ইউরোপের মঞ্চে সিটির খেলা ঠেকানোর স্বয়ংক্রিয় কোনো ব্যবস্থা নেই।
সব মিলিয়ে আপিলে হেরে গেলে একদিকে প্রিমিয়ার লীগে সিটির ভবিষ্যৎ ঘোর অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে, অন্যদিকে ইউরোপীয় ফুটবলেও তৈরি হবে নজিরবিহীন পরিস্থিতি। ঘরোয়া লীগে অবনমিত বা বহিষ্কৃত কোনো দল চ্যাম্পিয়নস লীগে অংশ নিলে তা ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রশ্নের জন্ম দেবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০