
দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে বিদ্যমান আইন ও বিধিতে একগুচ্ছ পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সামগ্রিক কাঠামোতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে এই খসড়া প্রস্তাবটি সম্প্রতি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতা নির্ধারণ, হলফনামার তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং নির্বাচনি অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ভোটকেন্দ্রে গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ভোটগ্রহণ স্থগিত বা বাতিল করার ক্ষমতা কমিশনের হাতে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে নির্বাচনি এলাকায় অনিয়মের অভিযোগের ক্ষেত্রে কমিশন দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে। এছাড়া, কোনো প্রার্থী বা তার প্রতিনিধি গুরুতর বেআইনি কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হলে বা আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে কমিশন নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে। তবে দীর্ঘদিনের আলোচনার পরও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়নি।
পলাতক ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ রোধ করতে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ বাতিলের প্রস্তাব করেছে ইসি। এর পরিবর্তে একাধিক স্থানে মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ রাখা হচ্ছে। নির্বাচনি অপরাধের শাস্তি আরও কঠোর করার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রেও কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। স্থানীয় সরকার পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা যুক্ত করা হয়েছে, তবে নির্ধারিত সময়ে ভোট সম্ভব না হলে কমিশন পরবর্তী সুবিধাজনক সময়ে তা আয়োজন করতে পারবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘না’ ভোটের ব্যবস্থা থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমন কোনো বিধান রাখা হয়নি। ইসি জানিয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে এই নতুন প্রক্রিয়ার যাত্রা শুরু হবে এবং এবার উপজেলা ভিত্তিক ইউপি ভোট অনুষ্ঠিত হবে। চলতি মাসেই প্রথম ধাপের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০