
ভারতের বাঁকুড়ার ইন্দাস থানার কারিসুন্দা গ্রামে সরকারি স্কুলের মানোন্নয়নের দাবিতে সোচ্চার হওয়ার জেরে হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন শেখ আব্দুল হাফিজের বাবা মাফিক। গত ১৩ আগস্ট স্থানীয় বিজেপি কর্মী হিসেবে পরিচিত সশস্ত্র ব্যক্তিরা হাফিজের বাড়িতে ঢুকে তাকে ও তার বাবাকে মারধর করেন। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর ১৫ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাফিকের মৃত্যু হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর হাফিজ ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ৫০ লাখ রুপি তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
ঘটনার সূত্রপাত ১৩ আগস্ট, যখন ২৫ বছর বয়সী হাফিজ সিজেপির ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গ্রামের একটি সরকারি স্কুল পরিদর্শন করেন। স্কুলটির অবকাঠামোগত দুরবস্থা জনসমক্ষে তুলে ধরার পরই তিনি হামলার শিকার হন। সিজেপির অভিযোগ, হামলাকারীরা হাফিজকে স্কুলের দুরবস্থা নিয়ে ক্ষমা চাইতে এবং বাইরের প্ররোচনায় কাজ করেছেন বলে স্বীকারোক্তি দিতে চাপ দেয়। এতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ও তার বাবাকে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। হাফিজ পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একটি ভিডিওর মাধ্যমে নিজের ওপর হওয়া নির্যাতনের বর্ণনা দেন। নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে পরে কলকাতায় স্থানান্তর করা হয়।
এই ঘটনায় সরকারি ক্ষতিপূরণ নিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন হাফিজ। তিনি দাবি জানিয়েছেন, ক্ষতিপূরণের পরিবর্তে এলাকায় একটি বিশ্বমানের স্কুল নির্মাণ করে সেটির নাম যেন তার বাবার নামে রাখা হয়। সিজেপির জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটির সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ১৭ আগস্ট কারিসুন্দা গ্রামে গিয়ে হাফিজ ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। দলটি জানিয়েছে, হাফিজের বাবার মৃত্যুর বিচার এবং এলাকায় শিক্ষার মানোন্নয়নের দাবি অব্যাহত রাখতেই এই তহবিল সংগ্রহের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
সিজেপির সদস্য অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেছেন যে, ভালো স্কুলের দাবি তোলাই ছিল হাফিজের বাবার অপরাধ, যার জন্য তাকে প্রাণ দিতে হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সামর্থ্য অনুযায়ী এই তহবিলে সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকারি স্কুলের দুরবস্থা নিয়ে হাফিজের সোচ্চার হওয়ার বিষয়টি এখন স্থানীয় পর্যায়ে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০