
সৌদি আরবের রাজধানীর রিয়াদে অবস্থিত আরামকোর একটি তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। শনিবার গভীর রাতে হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে এই হামলা পরিচালনা করেছেন, যার ফলে স্থাপনাটিতে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থলে থাকা এএফপির সাংবাদিক রিয়াদের দক্ষিণে অবস্থিত ওই তেল শোধনাগারে অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের তৎপরতা এবং স্থাপনার আশেপাশে অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করেছেন। খরচ ও জটিলতা এড়াতে সমন্বিত লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চান রেস্তোরাঁ মালিকেরা। গভীর রাতে ৪.৮ মাত্রার ভূমিকম্প, উৎপত্তিস্থল মিয়ানমারে। থামার সংকেত না মেনে এসআরবি কর্মকর্তাকে চাপা দিলো ট্রাক। একদিকে রয়েছে ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী, যারা সানা-সহ উত্তর-পশ্চিম ইয়েমেনের অধিকাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে; অন্যদিকে রয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার। এডেন শহরভিত্তিক এই সরকার দেশের দক্ষিণ ও পূর্বের অধিকাংশ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে।
এই হামলার বিপরীতে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। হুতি-নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশনের দাবি, সৌদি বাহিনী রাজধানী সানার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ২৬ বার বিমান হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় সংবাদকর্মীরা জানিয়েছেন, প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দের পাশাপাশি যুদ্ধবিমান থেকে শহরের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে দেখা গেছে। এছাড়া উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সা’দা প্রদেশে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক লক্ষ্য করেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর খবর পাওয়া গেছে। এর আগে তারা সানায় ‘সৌদি আগ্রাসনের’ খবর দিলেও হামলার লক্ষ্যবস্তু বা হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ নতুন করে তীব্র রূপ নিয়েছে। লোহিত সাগরের উপকূল ও বাব আল-মানদেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হুতিদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। গত কয়েক দিনে তাইজ শহরকে কেন্দ্র করে লড়াই সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন সূত্রমতে, শুক্রবারের লড়াইয়ে অন্তত ৫৫ জন হুতি যোদ্ধা এবং ২৬ জন সরকারি সৈন্য নিহত হয়েছে। পাহাড়ি এলাকাগুলো দখলে রাখতে উভয় পক্ষ মরিয়া হয়ে উঠেছে। সরকারি দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিতে অভিযান।
ইয়েমেনের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মানুষ বর্তমানে তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি। যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতির কারণে মানবিক সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। হুতিদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সৌদি জোট গত ২৪ ঘণ্টায় তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে ৯৪ বার বিমান হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমান্তের কাছে নাজরান শহরে হুতিদের ছোড়া প্রজেক্টাইল একটি স্কুলে আঘাত হেনেছে, যাতে ভবনটির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত নিরসনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা থাকছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, রিয়াদ এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের সহায়তা চেয়েছে। শুক্রবার মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইয়েমেন পরিস্থিতি ও ইরানের সাথে উত্তেজনার বিষয়ে একটি গোপন বৈঠক করেছেন বলে তিন মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওকে জানিয়েছেন। তবে এই বৈঠকের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা আসেনি।
দীর্ঘ চার বছর যুদ্ধবিরতি বজায় থাকার পর, হুতি প্রতিনিধিদলকে বহনকারী একটি বিমান সৌদির অনুমতি ছাড়া সানায় অবতরণ করায় নতুন করে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। রিয়াদ এর জবাবে সানা বিমানবন্দরে বিমান হামলা চালায় এবং হুতিরা পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সৌদি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে। বর্তমানে লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ চলাচলের ওপর নৌ-অবরোধের ঘোষণাও দিয়েছে হুতিরা। সামগ্রিক এই পরিস্থিতি এখন আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের জন্য বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে। কয়েক বছর শান্ত থাকার পর, গত মাসে ইয়েমেন আবারও গৃহযুদ্ধে নিমজ্জিত হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০