
ঢাকাই চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নব্বই দশকের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র সালমান শাহ। মাত্র কয়েক বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে তিনি দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছিলেন। তার অভিনয় জীবনের অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে তার জুটি। এই জুটির রসায়ন যেমন পর্দায় জনপ্রিয়তা পেয়েছিল, তেমনি তাদের ঘিরে সে সময় প্রেমের গুঞ্জনও ডালপালা মেলেছিল। সালমান শাহ ও শাবনূর জুটি বেঁধে মোট ১৪টি সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যু ঘটে। তার এই অকাল প্রয়াণ আজও রহস্যের বেড়াজালে বন্দি। পরিবারের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই তাকে ‘হত্যার’ অভিযোগ তোলা হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে তার স্ত্রী সামিরা হক বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে কথা বলেছেন। ২০১৭ সালে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি সেই সময়ের ঘটনাপ্রবাহ ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সালমান শাহ ও সামিরা হকের দাম্পত্য জীবনের শুরু হয়েছিল ১৯৯২ সালের ১২ আগস্ট। ভালোবেসে ঘর বাঁধলেও তাদের সুখের সময় খুব বেশি দীর্ঘ হয়নি। সামিরা জানান, শাবনূরকে নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা তাদের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলেছিল। তিনি বলেন, ‘আমি সালমানকে বলেছিলাম, শাবনূরের সঙ্গে সিনেমা করলে আমি তোমার সঙ্গে থাকব না। আমাকে ডিভোর্স দিয়ে দাও।’
সাক্ষাৎকারে সামিরা ‘প্রেম পিয়াসী’ সিনেমার ডাবিংয়ের সময়ের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। ১৯৯৭ সালের ১৮ এপ্রিল মুক্তি পাওয়া এই সিনেমার ডাবিং চলাকালীন শাবনূরের সঙ্গে সালমানের ঘনিষ্ঠতা দেখে তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। সামিরা বলেন, ‘ডাবিংয়ের মাঝে শাবনূর বারবার সালমানকে জড়িয়ে ধরছিল, কানে কানে কথা বলছিল। আমি সেটা নিতে পারছিলাম না। আমি আমার শ্বশুরকে বলেছিলাম, আমি আর থাকব না।’
মৃত্যুর আগের রাতের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে সামিরা জানান, ৫ সেপ্টেম্বর রাতে তারা বাসায় ফিরেছিলেন। সঙ্গে ছিলেন পরিচালক বাদল খন্দকার। সেই রাতে তারা একসঙ্গে খাবার খেয়েছিলেন। সামিরা বলেন, ‘আমি নিজ হাতে সালমানকে খাইয়ে দিয়েছিলাম। সে সময় সে আমার কাছে কিছুটা অভিমানও করেছিল।’
সামিরার ভাষ্যমতে, সেই রাতে সালমান তাকে কানাডায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘তখন কানাডায় যেতে মাত্র ২০ লাখ টাকা লাগত। আমার শ্বশুর এসে ৫০ হাজার টাকা চেয়েছিলেন, যা আমি দিয়েছিলাম।’
মৃত্যুর দিনের বিষয়ে সামিরা জানান, ৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে সোনারগাঁয়ে বাদল খন্দকার ও পপির সঙ্গে তাদের একটি মিটিংয়ের কথা ছিল। তিনি বলেন, ‘ইমন (সালমান শাহ) যেদিন মারা গেল, সেদিন সোনারগাঁয়ে বাদল খন্দকার ও পপির সঙ্গে আমাদের দেখা করার কথা ছিল।’
সকালবেলার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সামিরা বলেন, ‘আমি ১১টার দিকে টের পাই ইমন উঠে গেছে। সে বাথরুমে গিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় সাড়া না পেয়ে ওমর ও ডলি দরজা ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। আমিই শেষ পর্যন্ত দরজা ধাক্কা দিয়ে ভেতরে যাই। যা দেখার দেখলাম, চিৎকার দিয়ে আমি পা জড়িয়ে ধরি।’
সামিরা আরও বলেন, ‘বাসায় তখন আমরা চারজন ছিলাম। আবুল রাতে থাকত না। আমরা সবাই চিৎকার করছিলাম। নিজের ভাই-বোন, বাচ্চা বা হাজবেন্ড সুইসাইড করলে কেউ কি পুলিশের জন্য অপেক্ষা করে? এটা ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে ঘটে গিয়েছিল।’
সালমান শাহর মৃত্যুর পর তিন দশক পার হয়ে গেলেও ভক্তদের হৃদয়ে তার জায়গা আজও অটুট। তার অকাল প্রয়াণ ঢাকাই চলচ্চিত্রের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সময়ের সঙ্গে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০১৭ সালে দেওয়া সাক্ষাৎকারটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পপিকে জিজ্ঞেস করেন—৬ তারিখ (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পরবর্তী সিনেমা নিয়ে সোনারগাঁয়ে বাদল খন্দকারের সঙ্গে কি আপনার, সামিরা ভাবি আর ইমনের দেখা করার কথা ছিল কি না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আপনি রাগ করে মায়ের কাছে চলে গিয়েছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: টাকা নেওয়া আছে এমন তিন-চারটা সিনেমার ডাবিং বাকি আছে, ডাবিংয়ের সময়েও তুমি আমার সঙ্গে থাকবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ’ প্রত্যেকটাতে আমি উপস্থিত থাকব বলেই তো ডাবিংয়ে গেছিলাম।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০