
দিল্লিতে বিরোধীদের মহাসমাবেশের ঠিক দুই দিন আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গুজরাটের মাটি থেকে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। বানাসকাণ্ঠায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট ঘোষণা করেন, জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি দেশ ও দেশবাসীর সেবায় নিজেকে নিবেদিত রাখতে চান। তাঁর এই ঘোষণা ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত শুক্রবার গুজরাটে বানাসকাণ্ঠায় একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এক আবেগপূর্ণ বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মোদির এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গেই বিরোধী ও ক্ষমতাসীন দুই শিবিরেই এই আলোচনা শুরু হয়েছে, তবে কি নরেন্দ্র মোদি ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে আবার বিজেপিকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার কথাই বলছেন।
অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মোদি জানান, ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর প্রথম বড় জনসভাটিও এই বানাসকাণ্ঠাতেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি বলেন, গুজরাটের মানুষই তাঁকে প্রশাসনিক কাজের খুঁটিনাটি শিখিয়েছেন। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা মোদি নিজেকে আজকের অবস্থানে পৌঁছানোর জন্য জনগণের ভালোবাসাকেই মূল কৃতিত্ব দিয়েছেন। এ সময় তিনি উপস্থিত জনতার কাছে আবেগমথিত অনুরোধ জানান, যেন তাঁকে 'প্রধানমন্ত্রী' না বলে পুরনো দিনের মতোই 'নরেন্দ্র ভাই' বলে সম্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদি তাঁর অতীতের স্মৃতি স্মরণ করে জানান, ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর প্রথম প্রধান জনসভাও এই বানাসকাণ্ঠায় আয়োজিত হয়েছিল। তিনি বলেন, গুজরাটবাসীই তাঁকে সবকিছু শিখিয়েছেন। তিনি এমন এক সাধারণ পরিবার থেকে এসেছেন, যেখানে কেউ পঞ্চায়েতপ্রধান হওয়ার স্বপ্নও কোনো দিন দেখেননি। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার প্রাথমিক দিনগুলোর কথা স্মরণ করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, শুরুতে তাঁর সরকারি নথি বা প্রশাসনিক নীতি সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না।
নিজেকে সেবার ব্রত পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের সেবাই তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্য। বানাসকাণ্ঠা সফরে তিনি প্রায় ১৪ হাজার কোটি রুপির বেশি মূল্যের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন এবং বেশ কিছু প্রকল্প জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। বিশেষ করে কৃষি ও দুগ্ধশিল্পের আধুনিকায়নে গ্রামীণ অর্থনীতির যে অগ্রগতি হয়েছে, তার প্রশংসা করেন তিনি। শেষনিশ্বাস পর্যন্ত আমি সেবার নীতিকেই ব্রত হিসেবে মেনে চলব—আমার মানুষের সেবা, প্রতিটি মানুষের সেবা।’। কৃষি ও দুগ্ধশিল্প থেকে শুরু করে পরিকাঠামো এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে বানাসকাণ্ঠার সাম্প্রতিক অগ্রগতির তিনি ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে মোদি কৃষকদের উন্নত ভারত গড়ার অন্যতম শক্তি হিসেবে অভিহিত করেন। বিগত এক দশকে পশুপালন খাতে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে যে আমূল পরিবর্তন এসেছে, তাও তিনি তুলে ধরেন। পূর্ববর্তী সরকারগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ এনে মোদি দাবি করেন, এনডিএ সরকার ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বা এমএসপি নিয়ে দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে।
তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এনডিএ সরকারের দূরদর্শী নীতির ফলে কৃষকরা প্রায় ৫০ লাখ কোটি রুপি পেয়েছেন এবং একই সঙ্গে সমপরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করতে সক্ষম হয়েছেন। উল্লেখ্য, নিজের দুই দিনের এই গুজরাট সফরে এসে তিনি সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কেভাদিয়ায় আয়োজিত একতা দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠানেও অংশ নেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০