
চিকিৎসাবিজ্ঞানে পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে আজ সোমবার শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের নোবেল মৌসুম। ৫ অক্টোবর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে ছয়টি বিভাগে এই সম্মানজনক পুরস্কার ঘোষণা করা হবে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পর পর্যায়ক্রমে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতিতে বিজয়ীদের নাম জানানো হবে। ১৯০১ সাল থেকে সুইডিশ বিজ্ঞানী ও ব্যবসায়ী আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছানুসারে বিজ্ঞান, শান্তি ও সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার দেওয়া হয়ে আসছে। চিকিৎসায় নোবেল ঘোষণা আজ, আলোচনায় যেসব গবেষণা। পুলিশি হয়রানি বন্ধের দাবিতে প্রেসক্লাবের সামনে ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদের অবরোধ। এক নজরে ২০২৬ সালের নোবেল ঘোষণার দিন-তারিখ।
এএফপির প্রতিবেদনে নোবেল পুরস্কার ও এর প্রতিষ্ঠাতা আলফ্রেড নোবেলকে ঘিরে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রথমত, ১৯০১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচজন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী কারাগারে বা গৃহবন্দি থাকায় সশরীরে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি। ১৯৩৬ সালে কার্ল ফন অসিয়েতস্কি, ১৯৯১ সালে অং সান সু চি, ২০১০ সালে লিউ শিয়াওবো, ২০২২ সালে অ্যালেস বিয়ালিয়াৎস্কি এবং ২০২৩ সালে ইরানের নার্গিস মোহাম্মদি বন্দি থাকা অবস্থায় এই পুরস্কার পান। শিক্ষকদের ভাগ্যে সামান্য বেতন, জোটে না পদোন্নতিও। ১৯৩৬ সালে জার্মান সাংবাদিক ও শান্তিকর্মী কার্ল ফন অসিয়েতস্কি নাৎসি বন্দিশিবিরে আটক ছিলেন। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তার জন্য রাখা চেয়ারটি খালি ছিল।
দ্বিতীয়ত, নোবেল পুরস্কারের ক্ষেত্রে বয়স কোনো বাধা নয়। পাকিস্তানের মালালা ইউসুফজাই মাত্র ১৭ বছর বয়সে শান্তি পুরস্কার পেয়ে সর্বকনিষ্ঠ বিজয়ী হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন। পদার্থবিজ্ঞানে অস্ট্রেলিয়ার লরেন্স ব্র্যাগ ১৯১৫ সালে ২৫ বছর বয়সে পুরস্কার পান, যদিও তার গবেষণার কাজ শুরু হয়েছিল মাত্র ২১ বছর বয়সে। অন্যদিকে, সবচেয়ে বেশি বয়সে পুরস্কার পাওয়ার রেকর্ডটি যুক্তরাষ্ট্রের জন গুডেনাফের। ২০১৯ সালে ৯৭ বছর বয়সে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি নিয়ে গবেষণার জন্য তিনি রসায়নে নোবেল পান। এর আগের বছর ৯৬ বছর বয়সে পদার্থবিজ্ঞানে পুরস্কার পেয়েছিলেন তার স্বদেশি আর্থার অ্যাশকিন। কোনো দলের কাছেই কি সাংবাদিকরা নিরাপদ। জান্তা সরকার তাকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিলেও দেশে ফেরার সুযোগ না পাওয়ার আশঙ্কায় তিনি মিয়ানমার ছাড়েননি।
তৃতীয়ত, নোবেল ফাউন্ডেশনের নিয়ম অনুযায়ী কাউকে মরণোত্তর পুরস্কার দেওয়া হয় না। তবে ১৯৭৪ সালের আগে দুজন ব্যক্তি মরণোত্তর এই সম্মান পেয়েছিলেন—জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব দ্যাগ হ্যামারশোল্ড এবং সুইডিশ কবি এরিক অ্যাক্সেল কার্লফেল্ড। নিয়ম পরিবর্তনের পর থেকে এই প্রক্রিয়াটি কঠোর করা হয়েছে। তবে কোনো বিজয়ী নাম ঘোষণার পর পুরস্কার গ্রহণের আগেই মৃত্যুবরণ করলে সেই পুরস্কার বহাল থাকে, যেমনটি ঘটেছিল ২০১১ সালে কানাডার র্যালফ স্টেইনম্যানের ক্ষেত্রে।
চতুর্থত, নোবেল পুরস্কারে নারীদের অংশগ্রহণ নিয়ে বেশ আলোচনা রয়েছে। ১৯০১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৬৩৩টি পুরস্কারের মধ্যে মাত্র ৬৮টি নারীরা অর্জন করেছেন, যা মোট পুরস্কারের প্রায় ১০ শতাংশ। বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা আরও কম। পদার্থবিজ্ঞানে ২৩০ জনের মধ্যে মাত্র ৫ জন নারী, রসায়নে ২০০ জনের মধ্যে ৮ জন, চিকিৎসাবিজ্ঞানে ২৩২ জনের মধ্যে ১৪ জন এবং অর্থনীতিতে ৯৯ জনের মধ্যে মাত্র ৩ জন নারী এই সম্মাননা পেয়েছেন। মেরি কুরি প্রথম নারী হিসেবে ১৯০৩ সালে পদার্থবিজ্ঞান এবং ১৯১১ সালে রসায়নে নোবেল পেয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন; তিনিই একমাত্র নারী যিনি দুইবার এই পুরস্কার পেয়েছেন।
পঞ্চমত, আলফ্রেড নোবেলকে বিশ্ববাসী ডিনামাইটের উদ্ভাবক হিসেবে চিনলেও তার নিজের সাহিত্য ও কবিতার প্রতি বিশেষ অনুরাগ ছিল। তিনি নিজেও কবিতা লিখতেন এবং তার লেখায় বিষণ্ণতা দূর করার বিষয়টি ফুটে উঠত। ১৮৬২ সালে সাহিত্য প্রতিভা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি লিখেছিলেন, পদার্থবিজ্ঞানই তার মূল ক্ষেত্র। ১৮৯৬ সালে মৃত্যুর বছরে তিনি ‘নেমেসিস’ নামে একটি বিতর্কিত ট্র্যাজেডি লিখেছিলেন, যার কাহিনি ১৬ শতকের রোমের এক নারীকে ঘিরে আবর্তিত হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০