
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত এক হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলককে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা এই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় মামুন (২৫) নামের এক গাড়িচালকের বাঁ চোখ স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যায়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আওলাদ হুসাইন গত ৩০ সেপ্টেম্বর আসামিদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনটি করেছিলেন।
আবেদনে বলা হয়, অন্য মামলায় কারাবন্দী আনিসুল ও পলক তৎকালীন সরকারের হয়ে আন্দোলন দমনে সক্রিয় ছিলেন। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে তাঁরা তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পিপির উদ্দেশে পলক বললেন, ‘তাঁর ওই স্থান থেকে আমার এই স্থানের দূরত্ব বেশি নয়’।
মামলার তদন্তে তাঁদের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় সুষ্ঠু বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
রোববার বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে দুই আসামিকে হাজতখানা থেকে আদালতে আনা হয় এবং ১১টা ৪১ মিনিটে তাঁদের কাঠগড়ায় তোলা হয়। এ সময় পলককে কাঠগড়ায় বাঁ হাত মুখে দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অন্যদিকে, আনিসুল হককে আরেক মামলার আসামি মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। শুনানি চলাকালে বিচারক সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আদালতের অনুমতি ছাড়া আইনজীবী মক্কেলের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না। আদালতে পিপি বললেন, এই আনিসুলের আমলে রাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে বিরোধীদের বিচার হতো।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন। পলকের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন আদালতে দাবি করেন, মামলার এজাহারে পলকের নাম নেই এবং ঘটনার সাত মাস পর এই মামলাটি করা হয়েছে। তাছাড়া মামলায় আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অপরাধের বিবরণ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি শামসুদ্দোহা সুমন শুনানিতে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, আনিসুল হক ছিলেন তৎকালীন সরকারের মূল নীতিনির্ধারকদের একজন। আর পলক ছিলেন জুলাই আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়ে ছাত্রদের ওপর নিপীড়ন চালানোর অন্যতম মাস্টারমাইন্ড। তিনি আরও মন্তব্য করেন, আনিসুল হকের আমলে বিরোধী পক্ষকে দমন করার নানা নজির রয়েছে। পলকের নির্দেশে জুলাইয়ে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে থ্রিজি, ফোরজি ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বেলা ১১টা ৫৩ মিনিটে আদালত এই আদেশ প্রদান করেন। এর পাশাপাশি, পাপ্পু চৌধুরী হত্যা মামলায় নাসির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখানোর একটি আবেদন করেছিলেন যাত্রাবাড়ী থানার এসআই সৌমিত্র সরকার। আদালত সেই আবেদনটিও মঞ্জুর করেছেন। শুনানি শেষে পুলিশি নিরাপত্তায় আসামিদের আদালত ভবনের সিঁড়ি দিয়ে পুনরায় হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০