
সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে পদের নাম, বেতন স্কেল এবং গ্রেড সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকে, যার ফলে আবেদনকারী শুরুতেই আর্থিক নিশ্চয়তা সম্পর্কে জানতে পারেন। তবে দেশের বেসরকারি খাতের চিত্রটি একেবারেই ভিন্ন। ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিপণন বা মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার মতো অধিকাংশ চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে দায়িত্ব ও যোগ্যতার বিস্তারিত বিবরণ থাকলেও বেতনের জায়গায় থাকে কেবল ‘আলোচনা সাপেক্ষে’ বা ‘আকর্ষণীয় বেতন’—এই দুই শব্দ। কিছু বেসরকারি ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানে বেতনের উল্লেখ থাকলেও তার সংখ্যা খুবই সীমিত। বিশেষ করে যাঁরা প্রথম চাকরির সন্ধান করছেন, তাঁদের অনেকেরই চাকরির বাজারে প্রচলিত বেতন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকে না। বেশি বেতন চাইলে নিয়োগদাতা তাঁকে বাদ দিতে পারেন, আবার কম বেতন চাইলে নিজের যোগ্যতার যথাযথ মূল্য না-ও পেতে পারেন, এমন দুশ্চিন্তা থাকে। আর ‘আলোচনা সাপেক্ষে’ কথাটি থাকলেও আলোচনাটি কখন, কিসের ভিত্তিতে এবং কত টাকার মধ্যে হবে, সে সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা থাকলে অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
কত টাকা বেতন পাওয়া যাবে তা না জেনে আবেদন করার ফলে তরুণ চাকরিপ্রার্থীরা, বিশেষ করে সদ্য স্নাতক হওয়া প্রার্থীরা, বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছেন। কোন পদের জন্য কত বেতন চাওয়া যুক্তিযুক্ত, সে সম্পর্কে অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকায় তাঁদের দোদুল্যমান অবস্থায় থাকতে হয়। নিয়োগ সাক্ষাৎকারে বেতন নিয়ে প্রশ্ন করলে নিজের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে পারে—এমন দুশ্চিন্তাও কাজ করে অনেকের মনে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য স্নাতক হওয়া চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিষয়টি আরও জটিল।
চাকরিপ্রার্থী মাহফুজ রহমানের মতো অনেকেই বিজ্ঞপ্তিতে বেতন না থাকায় আবেদনের আগে দ্বিধায় পড়েন। অন্যদিকে সিদ্ধার্থ রায়ের মতো প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সমস্যাটি আরও প্রকট; তাঁরা বুঝতে পারেন না ঠিক কত টাকা বেতন দাবি করলে নিয়োগদাতা সেটি ইতিবাচকভাবে নেবেন। কেবল নতুনরাই নন, অভিজ্ঞ চাকুরিজীবীরাও নতুন প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে বর্তমান বেতন, যাতায়াত খরচ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে তুলনার সুযোগ না পেয়ে সমস্যায় পড়েন।
আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য গবেষণাপ্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবির মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান মোশাররফ হোসেন মনে করেন, বিজ্ঞপ্তিতে বেতন গোপন রাখা একটি অনৈতিক ও অপেশাদার চর্চা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়াটি এখনো পুরোপুরি পেশাদার রূপ পায়নি, তাই ‘আলোচনা সাপেক্ষে’ লেখাটি একধরনের রেওয়াজে পরিণত হয়েছে, যা কাম্য নয়। প্রায়ই দেখা যায়, অনেক প্রার্থী বেশি উপার্জনের আশায় আবেদন করেন, কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ে আগের চেয়ে কম বেতনের অফার পান। এতে নিয়োগদাতা ও প্রার্থী—উভয় পক্ষেরই সময় ও শ্রম নষ্ট হয়। দর-কষাকষিতে সুবিধাজনক অবস্থানে কারা।
বিজ্ঞপ্তিতে বেতন না থাকায় তথ্যের অসমতা তৈরি হয়, যেখানে নিয়োগদাতা পদের বাজেট জানলেও প্রার্থী অন্ধকারে থাকেন। ফলে দর-কষাকষির ক্ষেত্রে নিয়োগদাতাই কৌশলগতভাবে এগিয়ে থাকেন। চাকরিপ্রার্থীদের জন্য একটি জরুরি তথ্য হলো, চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে ৩৯৩ জনের নিয়োগ চলছে, যার আবেদনের সময়সীমা ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত।
বেতন নিয়ে দর-কষাকষির ক্ষেত্রে কিছু কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে। প্রথমত, একই পদের বাজারদর সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী বা সংশ্লিষ্ট খাতে কর্মরত পরিচিতদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা জরুরি। দ্বিতীয়ত, বাসাভাড়া, যাতায়াত, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং নিজের দক্ষতা অনুযায়ী প্রত্যাশিত বেতনের একটি হিসাব আগে থেকেই ঠিক করে রাখা উচিত।
তৃতীয়ত, ইন্টারভিউ চলাকালীন কৌশলে প্রতিষ্ঠানের বেতনসীমা সম্পর্কে জানতে চেয়ে নিয়োগদাতার অবস্থান বুঝে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। চতুর্থত, কেবল মূল বেতনের দিকে না তাকিয়ে প্রভিডেন্ট ফান্ড, স্বাস্থ্যবিমা, উৎসব ভাতা ও যাতায়াত ভাতার মতো সুযোগ-সুবিধাগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
পঞ্চমত, বেতন চাওয়ার সময় নিজের দক্ষতা, দায়িত্ব ও অভিজ্ঞতার সপক্ষে শক্তিশালী যুক্তি তুলে ধরতে হবে। নির্দিষ্ট একটি অঙ্কে আটকে না থেকে যুক্তিসংগত একটি বেতনসীমা প্রস্তাব করা ভালো। যদি প্রস্তাবিত বেতন প্রত্যাশার চেয়ে কম হয়, তবে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে কি না, তা বিনয়ের সাথে জানতে চাওয়া যেতে পারে। সামগ্রিকভাবে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বেতনের স্বচ্ছতা থাকলে উভয় পক্ষের সময় ও শ্রম সাশ্রয় হতো।
উল্লেখযোগ্য যে, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন স্কলারশিপ ও ফেলোশিপের দিকেও নজর রাখা প্রয়োজন, যেমনটি সম্প্রতি আশফাকুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডির সুযোগ পেয়ে অর্জন করেছেন। এছাড়া, দীর্ঘ সময় ধরে সাফল্যের সঙ্গে পরিচালিত কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পদ্ধতি থেকে শেখার সুযোগ থাকে, যা ক্যারিয়ারের জন্য সহায়ক হতে পারে। ৭৫ বছর ছাঁটাই ছাড়াই চলছে কোম্পানিটি; পরিচালনা পদ্ধতি দেখতে ভিড় সিইওদের।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০