
হরমুজ প্রণালীতে চলমান নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টির কারণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহে ‘ফোর্স মেজর’ বা অনিবার্য পরিস্থিতির ঘোষণা আরও দীর্ঘায়িত করেছে কাতার এনার্জি। এই সিদ্ধান্তের ফলে এশিয়া ও ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের জ্বালানি আমদানিতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ব্লুমবার্গের তথ্যানুযায়ী, চলতি সপ্তাহে কাতার এনার্জি পাকিস্তানি ক্রেতাদের জানিয়েছে যে, অক্টোবর মাস পর্যন্ত এলএনজি কার্গো স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রেও ফোর্স মেজরের মেয়াদ সেপ্টেম্বর পেরিয়ে আরও বাড়ানো হয়েছে। ইউরোপের দেশগুলোর ক্ষেত্রেও সরবরাহ স্থগিতের নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
ইতালির জ্বালানি কোম্পানি ‘এডিসন’ জানিয়েছে, কাতার এনার্জি তাদের এলএনজি সরবরাহ স্থগিতের মেয়াদ আগামী নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত বর্ধিত করেছে। ইতালির অ্যাড্রিয়াটিক এলএনজি রিসিভিং টার্মিনালে আসার কথা ছিল এমন অতিরিক্ত পাঁচটি কার্গো সরবরাহ করা সম্ভব হবে না বলে জানানো হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই ফোর্স মেজরের কারণে এ পর্যন্ত মোট ২৯টি কার্গো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর মেয়াদ ২০২৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত গড়াচ্ছে। তবে এডিসন বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের মাধ্যমে সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করছে।
গত ৪ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধার মুখে কাতার এনার্জি প্রথমবার এলএনজি কার্যক্রমে ফোর্স মেজর ঘোষণা করে। পরবর্তীতে মার্চ মাসে কাতারের রাস লাফান জ্বালানি স্থাপনায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়। কাতার এনার্জির প্রেসিডেন্ট ও সিইও এবং জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাআবি জানিয়েছিলেন, ওই হামলার কারণে কাতারের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা ১৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয় জুলাই মাসে, যখন হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের সময় কাতারের এলএনজি ট্যাংকার ‘আল রেকায়াত’ (Al Rekayyat)-এর ওপর হামলা চালানো হয়। কাতার এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে। যদিও জাহাজের ক্রুদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছিল, তবে এই ঘটনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করে।
আঞ্চলিক অস্থিরতা নিরসন ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে কাতার কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। এরই অংশ হিসেবে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান বিন জসিম আল-থানি সম্প্রতি তেহরান সফর করেছেন এবং শীর্ষ ইরানি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাতার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ নিয়ে মোট ক্ষতিগ্রস্ত কার্গোর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯টিতে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার অবসান এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে জোরালো কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কাতার।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০