
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা প্রায় সাত লাখ চাকরিপ্রার্থীর দীর্ঘ প্রতীক্ষা কাটছে না। গত বছরের আগস্ট মাসে ১ হাজার ১২২টি শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এরপর এক বছর পেরিয়ে গেলেও পরীক্ষা আয়োজনের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরুর সময় পদের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ১৬৯টি। পরবর্তীতে বিধিমালা সংশোধন করে মোট শূন্য পদের ৮০ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই পরিবর্তনের ফলে সরাসরি নিয়োগের পদের সংখ্যা কমে ১ হাজার ১২২টিতে নেমে আসে। এই বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর পরীক্ষা ঢাকায় আয়োজন করা পিএসসির জন্য একটি বড় প্রশাসনিক ও আর্থিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের প্রাথমিক প্রস্তুতি নিলেও আইনি জটিলতার কারণে তা স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। যদিও সম্প্রতি উচ্চ আদালতের রায়ে সেই আইনি বাধা দূর হয়েছে, তবে নতুন করে তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক জটিলতা। গত ১৮ আগস্ট পিএসসির চেয়ারম্যান মোবাশ্বের মোনেম পদত্যাগ করায় সাংবিধানিক এই পদটি শূন্য হয়ে পড়েছিল। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়াকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে এখন পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী জানিয়েছেন, নিয়োগ পরীক্ষা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও উপাত্ত পিএসসির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন পিএসসি তাদের সুবিধামতো তারিখ ও সময়সূচি নির্ধারণ করবে। পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে রুটিন কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে পরীক্ষার বিষয়ে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নিয়োগ পরীক্ষার কাঠামো অনুযায়ী, প্রার্থীদের ৯০ নম্বরের লিখিত এবং ১০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর পাওয়া বাধ্যতামূলক। প্রতিটি পদের বিপরীতে গড়ে ৬২৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সরাসরি নিয়োগের পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির বিষয়টিও দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে আছে। দেশের ৬৫ হাজার ৪৫৭টি অনুমোদিত প্রধান শিক্ষকের পদের মধ্যে বর্তমানে ৩৪ হাজার ১৫৯টি পদই শূন্য। এসব বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকেরা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে পদোন্নতি প্রক্রিয়া আইনি জটিলতায় বন্ধ ছিল। গত জুন মাসে আপিল বিভাগের রায়ে সেই জটিলতার নিরসন হলেও রায়ের লিখিত কপি এখনো প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের হাতে পৌঁছায়নি। ফলে প্রশাসনিকভাবে পদোন্নতির কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। একদিকে সরাসরি নিয়োগের অপেক্ষায় সাত লাখ প্রার্থী, অন্যদিকে পদোন্নতিপ্রত্যাশী শিক্ষকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা—সব মিলিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে প্রধান শিক্ষকের সংকট কাটানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চাকরির আরও তথ্য: ১ হাজার ১২২টি পদের বিপরীতে তাঁরা আবেদন করেছিলেন গত বছরের আগস্টে। চাকরির আরও তথ্য: চাকরিপ্রার্থীদের অনেকেই দীর্ঘ অপেক্ষায় হতাশ। চাকরির আরও তথ্য: ফলে প্রস্তুতি চালিয়ে গেলেও পরীক্ষার অনিশ্চয়তা তাঁদের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলছে। চাকরির আরও তথ্য: প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। চাকরির আরও তথ্য: সংশোধিত বিধিমালার কারণে সরাসরি নিয়োগের পদের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ১২২–এ। চাকরির আরও তথ্য: প্রক্সি দিয়ে পরীক্ষা, পিএসসিতে যোগদানে এসে আটক প্রার্থীকে থানায় হস্তান্তর। চাকরির আরও তথ্য: এইচ-৪ ভিসাধারীদের কাজের অনুমতি বাতিল করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, বেশি বিপাকে পড়বেন কারা। চাকরির আরও তথ্য: এই ১ হাজার ১২২ পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন প্রায় ৭ লাখ প্রার্থী।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০