
নেপালের ভোতেকোশি নদীতে গত ২৬ আগস্ট আঘাত হানা আকস্মিক বন্যায় দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা ও অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে বাংলাদেশে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বর্তমানে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। হিমালয় অঞ্চলের তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট এই বন্যা ও ভূমিধসে নদীর তীরবর্তী জনপদ, সড়ক ও সেতুসহ বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে। ‘দ্য হিন্দু’র তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ২৫০ জনে পৌঁছেছে এবং এখনো ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের (এনইএ) ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ জানিয়েছেন, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রকল্প দুটি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি কার্যত শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প কোনো প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমতির জন্য ভারতের কাছে আবেদন করেছে নেপাল। কর্তৃপক্ষ এখন ক্ষতিগ্রস্ত উৎপাদন ও সঞ্চালন অবকাঠামো মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (এনইএ), ভারতের এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি বছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত নেপাল থেকে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসার কথা ছিল। পরবর্তীতে ঢাকা অনুষ্ঠিত জেএসসি বৈঠকে আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি থাকলেও ভারতীয় সঞ্চালন লাইন ব্যবহারের চূড়ান্ত অনুমোদন এখনো পাওয়া যায়নি।
কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিলিমে প্রকল্প থেকে ২১ দশমিক ৪ মেগাওয়াট এবং ত্রিশূলী প্রকল্প থেকে ১৮ দশমিক ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিক্রির অনুমোদন ছিল, যা ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশে পৌঁছাত। তবে এবারের বন্যায় শুধু এই প্রকল্পগুলোই নয়, দেশটির মোট ১২টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।
সাধারণত বর্ষাকালে নেপালের নদীগুলোতে পানির প্রবাহ বাড়লে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। গত কয়েক বছরে বর্ষা মৌসুমে দেশটি গড়ে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে। তবে এবারের ভয়াবহ বন্যায় উৎপাদন কমে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। নেপাল নিজেদের একটি আঞ্চলিক বিদ্যুৎ রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার যে লক্ষ্য নিয়েছিল, এই দুর্যোগ তাতে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।
নেপালের বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটি বাংলাদেশ ও ভারতে ২ হাজার ৯৩২ কোটি নেপালি রুপির বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে। একই সময়ে শুষ্ক মৌসুমে ভারত থেকে ১ হাজার ২৩ কোটি রুপির বিদ্যুৎ আমদানি করলেও নিট বিদ্যুৎ বাণিজ্যে নেপালের উদ্বৃত্ত ছিল ১ হাজার ৯০৯ কোটি রুপি। বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ খাতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনাই দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিপুল প্রাণহানির পাশাপাশি নেপালের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও অবকাঠামো মারাত্মক সংকটে পড়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গতকাল বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে বলা হয়েছে, বর্ষাকালে নদীর পানি বাড়লে হাইড্রোপাওয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ সময় নিজেদের চাহিদা মিটিয়েও নেপালের বাড়তি বিদ্যুৎ থাকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত জেএসসি বৈঠকে বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াটের সঙ্গে আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করার বিষয়ে বাংলাদেশ ও নেপাল নীতিগতভাবে সম্মত হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এদিকে বন্যার কারণে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানিও বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পানির সঙ্গে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০