
প্রতিকূল আবহাওয়া ও ঘন কুয়াশার কারণে নেপালে চলমান অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির সরকার এখন বিদেশি কারিগরি সহায়তার ওপর জোর দিচ্ছে। রাসুয়া জেলার শীর্ষ কর্মকর্তা নরেন্দ্র পারিয়ার জানিয়েছেন, আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধারকাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে উদ্ধার হওয়া তীর্থযাত্রীদের রাজধানী কাঠমান্ডুতে স্থানান্তরের ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
গত বুধবার হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট পাথর, কাদা ও বরফের বিশাল স্রোত পার্বত্য নদীগুলোর ওপর আছড়ে পড়লে এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। এতে নেপালে অন্তত ৬২৬ জন এবং চীনের তিব্বতে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৩ হাজার মানুষ, যার মধ্যে নেপালে ২ হাজার ৪২৬ জন এবং তিব্বতের জিরং কাউন্টিতে ৫৫৪ জন রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৫৪০ জন বিদেশি নাগরিক, যাদের বড় একটি অংশ ভারত থেকে আসা হিন্দু তীর্থযাত্রী।
বন্যার তিন দিন পার হওয়ায় উদ্ধার হওয়া অনেক মৃতদেহ পচে যাওয়ায় শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্যঝুঁকি ও মহামারি এড়াতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত তাদের দাফনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নেপালের অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে জানিয়েছেন, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী এই হিমালয় অঞ্চলের দেশটিতে পুনর্গঠন কাজের জন্য প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি ডলারের প্রয়োজন হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এটি কেবল একটি প্রাথমিক অনুমান এবং প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় ভারত এরই মধ্যে ৬০ টন ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে তিনটি ফ্লাইট পাঠিয়েছে। এর মধ্যে কম্বল, ওষুধ, খাদ্য ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট রয়েছে। এছাড়া ভারতের পক্ষ থেকে দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী, প্রিফ্যাব্রিকেটেড সেতু ও কারিগরি দল পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, চীন নেপালের দুর্যোগ কবলিত এলাকায় জরুরি সহায়তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে, তবে তাদের পক্ষ থেকে কী ধরনের সহায়তা পাঠানো হচ্ছে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দেশটির সরকার জানিয়েছে, তিব্বত সীমান্তবর্তী একটি এলাকায় আঘাত হানা বিধ্বংসী বন্যা মোকাবেলায় তাদের বিদেশি কারিগরি সহায়তা প্রয়োজন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নেপালের অর্থমন্ত্রী রয়টার্সকে জানিয়েছে ন, তিন কোটি মানুষের এই দরিদ্র হিমালয়ী দেশটির বুধবারের বন্যার ধ্বংসযজ্ঞের পর পুনর্গঠনের জন্য প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি ডলারের প্রয়োজন হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই তীব্র স্রোত পথে থাকা ভবন, সেতু এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে গ্রাস করার পাশাপাশি নেপালে অন্তত ৬২৬ জন এবং চীনের তিব্বতে সাতজনের মৃত্যু হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি জানান, উদ্ধারকৃত তীর্থযাত্রীদের রাজধানী কাঠমান্ডুতে নিয়ে যাওয়ার জন্য সড়ক পরিবহনের ব্যবস্থা করার ওপরই এখন মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০