নেপালের গোর্খা জেলার চুমনুব্রি গ্রামে রোববার সকালে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৩৫টি ঘরবাড়ি এবং বেশ কয়েকটি সেতু ভেসে গেছে। এই বন্যায় একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে। এনডিটিভি অনলাইনের তথ্যানুযায়ী, ত্রিশূলী নদীর উপনদী বুড়ি গণ্ডকির পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে এই বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়। এর আগে গত ২৬ আগস্ট অন্য একটি উপনদীর অববাহিকায় হিমবাহ ধসের কারণে সৃষ্ট বন্যায় ১ হাজার ৪৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যা দেশটিতে বড় ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) জানিয়েছে, সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে নদীর পানির স্তর ৩ দশমিক ৬৬ মিটার থাকলেও মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তা ৮ দশমিক ৪৩ মিটারে পৌঁছায়। বিশেষ করে সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে ৮টা ৪০ মিনিটের মধ্যে—অর্থাৎ মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে—পানির স্তর ২ মিটারের বেশি বৃদ্ধি পায়, যা বিপদসীমার প্রায় ৫ মিটার উপরে ছিল। বন্যার তীব্রতায় পানির পরিমাপ কেন্দ্র এবং একটি সেতু ভেসে যাওয়ায় পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনডিআরআরএমএ জানায়, বন্যার তোড়ে সেতুসহ পানির পরিমাপ কেন্দ্রটি ভেসে যাওয়ায় এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নদীর পানি ঘন কাদা ও ধ্বংসাবশেষ মিশ্রিত কালো রঙের আকার ধারণ করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃষ্টির কারণে এই বন্যা হয়নি। উপগ্রহ চিত্র পর্যালোচনায় ধারণা করা হচ্ছে, নদীর প্রবাহ কোনো এক স্থানে আটকে গিয়েছিল এবং পরে তা আকস্মিকভাবে ভেঙে যাওয়ায় এই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে কারিগরি বিশ্লেষণ চলছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত বন্যায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে সতর্কতা হিসেবে নদীর নিচু এলাকার বাসিন্দাদের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান ত্যাগ করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের অত্যন্ত সতর্ক থাকার এবং নদীর কোলঘেঁষা বসতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০