
নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর দীর্ঘ সময় ধরে ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। তবে সোমবার দিল্লি পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, বিক্ষোভ ও সমাবেশের নির্ধারিত স্থান হিসেবে যন্তর মন্তরের স্বীকৃতি বাতিল করা হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। এখন থেকে বিক্ষোভের জন্য রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান ও পূর্ব দিল্লির সিবিডি ময়দানকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সিবিডি ময়দানটি যন্তর মন্তর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ডেঙ্গু: ২৪ ঘণ্টায় ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯৫৪। এর পরিবর্তে রাজধানীতে বিক্ষোভের জন্য তিনটি বিকল্প স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। একসময় জ্যোতির্বিদ্যার পর্যবেক্ষণাগার হিসেবে নির্মিত যন্তর মন্তর কীভাবে ভারতের অন্যতম পরিচিত প্রতিবাদস্থলে পরিণত হলো, সেখানে কোন কোন উল্লেখযোগ্য আন্দোলন হয়েছে, তা নিয়ে এ প্রতিবেদন। যন্ত্র ও গণনা—এই দুটি ধারণা থেকেই ‘যন্তর মন্তর’ নামের উৎপত্তি। অন্য চারটি নির্মিত হয়েছিল জয়পুর, উজ্জয়িনী, মথুরা ও বারাণসীতে।
তৎকালীন মুঘল সম্রাট মুহাম্মদ শাহের নির্দেশে ১৭২৪ সালের দিকে জয়পুরের মহারাজা সওয়াই জয়সিংহ দ্বিতীয় এই পর্যবেক্ষণাগারটি নির্মাণ করেন। এর আদি নাম ছিল ‘যন্ত্র মন্ত্র’। ইটের ওপর চুনের প্রলেপ দিয়ে তৈরি এই স্থাপনায় জ্যোতির্বিজ্ঞানের জটিল হিসাব নিকাশের জন্য সম্রাট যন্ত্র, রাম যন্ত্র, জয়প্রকাশ যন্ত্র ও মিশ্র যন্ত্রসহ মোট ১৪টি জ্যামিতিক যন্ত্র রয়েছে। মূলত খালি চোখে মহাকাশ ও জ্যোতিষ্কের গতিবিধি পর্যবেক্ষণই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। আনুমানিক ১৭২৪ সালে নির্মিত এই পর্যবেক্ষণাগারে খালি চোখে মহাকাশ পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হতো।
সময়ের পরিক্রমায় যন্তর মন্তর কেবল বিজ্ঞানচর্চার জায়গা থেকে রাজনৈতিক আন্দোলনের মানচিত্রে রূপ নেয়। অতীতে বোট ক্লাবের মাঠে বড় বড় সমাবেশ হলেও পরবর্তীতে স্থানটি আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়। দুর্নীতিবিরোধী ‘ইন্ডিয়া এগেইনস্ট করাপশন’ আন্দোলনসহ বিভিন্ন নাগরিক অধিকার ও বিরোধী জোটের দাবিদাওয়ার অন্যতম শক্ত জায়গা হয়ে ওঠে এটি। ভারতের সংসদ ভবন থেকে তিন কিলোমিটারেরও কম দূরত্বের এই অবস্থান বিক্ষোভকারীদের জন্য কৌশলগত ও প্রতীকী গুরুত্ব বহন করে। সংসদের কাছাকাছি হওয়ায় অনেক সময় আইনপ্রণেতারা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেতেন। দীর্ঘ লড়াইয়ে মোদি-শাহ, আরএসএস-বিজেপি, বিরোধী-জেন জি।
২০১১ সালে আন্না হাজারের জন লোকপাল বিলের আন্দোলন যন্তর মন্তরকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। এছাড়া ২০১২ সালের ডিসেম্বরে দিল্লিতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ, ২০১৯ সালে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) বিরোধিতা এবং ২০২৩ সালে কুস্তিগিরদের যৌন হয়রানি বিরোধী আন্দোলনও এখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত জুনে এনইইটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন ও পরিবেশবাদী সোনম ওয়াংচুকের অনশনও এই স্থানেই হয়েছিল।
তবে সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে সিজেপিসহ বিভিন্ন বিরোধী দল। মঙ্গলবার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ফটক টপকে যন্তর মন্তরে প্রবেশের দায়ে সিজেপির নেতা সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও অজিঙ্কা শিন্ডেকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের জাফরপুর থানায় নেওয়া হয়েছে। এই কঠোর পদক্ষেপের পর ককরোচরা জানিয়েছেন যে, রাষ্ট্র নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে এবং তাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০