
ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা করছে বর্তমান সরকার এবং শিগগির এ বিষয়ে ফলাফল জানানো হবে বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ। এদিকে, দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে; গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৭৯০ জন। এছাড়া, নেত্রকোনায় গত দুই সপ্তাহে পানিতে ডুবে আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং হামের উপসর্গে আরও দুইজনের মৃত্যুতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০১২ জনে।
বন্যপ্রাণী ও মাছের প্রজনন মৌসুম বিবেচনায় গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে পর্যটক ও বনজীবীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। এই তিন মাস সব ধরনের নৌযান চলাচলও বন্ধ রাখা হয়। তবে নিষেধাজ্ঞা শেষে পর্যটন মৌসুম শুরুর প্রাক্কালে সুন্দরবনের কটকা, কচিখালি, জামতলা, ডিমের চর ও আন্ধারমানিকসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, সৈকত থেকে বনের গভীর পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য।
গত মঙ্গলবার ডিমের চরে প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সাগরের তীরঘেঁষা উঁচু স্থানগুলোতে কয়েক টন প্লাস্টিকসামগ্রী পড়ে থাকতে দেখা গেছে। কটকা ও কচিখালি থেকেও প্রচুর বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। জামতলার হাঁটার পথ কিছুটা পরিষ্কার থাকলেও সি-বিচ এলাকায় প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের প্যাকেট, কর্কশিট ও কসমেটিকসের প্যাকেটের স্তূপ জমে আছে।
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবন (টোয়াস) পর্যটন মৌসুম শুরুর আগে ৭ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচটি পর্যটনকেন্দ্রে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে ১৫ বস্তা প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করেছে। এর আগে মে মাসেও ১২ বস্তা বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছিল। টোয়াসের সহসভাপতি মাঝহারুল হক কচি জানান, এবার বর্জ্যের পরিমাণ বেশি হওয়ায় পুরো মৌসুমজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তারা পর্যটকদের কাউন্সেলিংয়ের পাশাপাশি নিজেদের উদ্যোগে জাহাজ থেকে বর্জ্য অপসারণের কাজ করবেন।
সুন্দরবনের প্লাস্টিক দূষণের উৎস সম্পর্কে পরিবেশবিদরা বলছেন, শুধু পর্যটকদের দায়ী করলে সমস্যার মূল কারণ আড়ালে থেকে যাবে। পশুর, শিবসা, কপোতাক্ষ, শেলা ও বলেশ্বরসহ সুন্দরবনের সীমানা ঘেঁষে বয়ে যাওয়া নদীগুলো বর্জ্য বহনের প্রধান পথ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরার উপকূলীয় জনপদের বাজার, মৎস্য আড়ত ও বসতবাড়ির ব্যবহৃত প্লাস্টিক নদী-খালে গিয়ে পড়ছে, যা জোয়ারের পানিতে বনের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম জানান, আপস্ট্রিম নদীগুলো থেকে প্লাস্টিক নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে ৮০ শতাংশ দূষণ কমানো সম্ভব। প্লাস্টিক দূষণ গাছের বৃদ্ধি ও বীজের অঙ্কুরোদগম ব্যাহত করছে এবং খাদ্য শৃঙ্খলে প্রবেশ করে বাস্তুতন্ত্রের ব্যাপক ক্ষতি করছে।
বন বিভাগ জানিয়েছে, সুন্দরবনের ভেতরে প্লাস্টিক নেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং বন প্রহরীরা নিয়মিত টহল ও তল্লাশি চালায়। তবে নদীপথে ভেসে আসা বর্জ্য ঠেকানো কঠিন চ্যালেঞ্জ। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাসানুর রহমান বলেন, এটি শুধু বন বিভাগ বা টোয়াসের পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়; স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ এবং জনসচেতনতা প্রয়োজন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার, শিগগির ফলাফল: চিফ হুইপ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ২, হাসপাতালে ৭৯০। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পানিতে ডুবে নেত্রকোণায় ২ সপ্তাহে ৮ শিশুর মৃত্যু। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞার পর সুন্দরবনে গিয়ে কী দেখা গেল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জোয়ার-ভাটার স্রোতে উপকূলীয় নদী-খাল থেকে এসব বর্জ্য ভেসে এসে সুন্দরবনে জমা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একইভাবে সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া নৌযান থেকে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকও স্রোতের সঙ্গে বনের বিভিন্ন এলাকায় পোঁছাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ৬ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সুন্দরবনের কটকা, কচিখালি, জামতলা, ডিমের চর ও আন্ধারমানিকসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, সৈকত থেকে বনের অভ্যন্তর পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে নানা ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০