
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় তারকা দম্পতি মৌসুমী ও ওমর সানী। ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমা মুক্তির পর প্রযোজকদের উদ্যোগে ‘দোলা’ সিনেমায় প্রথমবার জুটি বাঁধেন তাঁরা। সেই কাজের সুবাদে সিলেটে শুটিং চলাকালীন তাঁদের মধ্যে মনোমালিন্য হলেও, সেই দূরত্বই একসময় গভীর ভালো লাগায় রূপ নেয়। মৌসুমীর ব্যক্তিত্ব ও তাঁর পরিবারের আন্তরিকতা সানীকে মুগ্ধ করেছিল। অবশেষে ১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠজন ও দুজন চলচ্চিত্র পরিচালকের উপস্থিতিতে তাঁরা চুপিসারে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের দেড় বছর পর ১৯৯৬ সালের ২ আগস্ট তাঁদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
দীর্ঘ ৩১ বছরের পথচলায় সংসার, সন্তান ও নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজও তাঁরা একসঙ্গে। সম্পর্কের দীর্ঘস্থায়িত্বের মূলমন্ত্র হিসেবে সানী বিশ্বাস ও পারস্পরিক ত্যাগের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক মানেই একে অপরের প্রতি আস্থা রাখা এবং প্রয়োজনে স্যাক্রিফাইস করা। মৌসুমীর গুণাবলি নিয়ে সানী জানান, মৌসুমীর যত্নশীল স্বভাব এবং জেদ তাকে ভীষণ টানে। সানী নিজের ধৈর্য কম হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, মৌসুমী অনেক বিষয় ধৈর্য ধরে সামলাতে পারে, যা তাকে মুগ্ধ করে। এছাড়া মাঝেমধ্যে বোকামির জন্য মৌসুমী তাকে বকাঝকা করলেও, দিনশেষে তিনিই সানীর সবকিছুর খোঁজখবর নেন, যা তাকে মানসিকভাবে স্বস্তি দেয়।
দাম্পত্য জীবনে মাঝেমধ্যে বিচ্ছেদের গুঞ্জন ছড়ালেও এসব নিয়ে বিচলিত নন এই তারকা দম্পতি। সানী জানান, মানুষ হিসেবে ভুল হওয়া স্বাভাবিক। এসব ভিত্তিহীন গুঞ্জন নিয়ে গণমাধ্যমে লেখালেখি প্রসঙ্গে মৌসুমী তাঁকে বলেছিলেন, হয়তোবা এসব লিখে বা বলে কারও সংসার চলে, তাই তাঁরা এমনটা করে। এসব নেতিবাচক আলোচনাকে গুরুত্ব না দিয়ে সানী নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘এই বয়সেও এসে আমি বলব, ফারদীন–ফাইজার আম্মু—তোমাকে ভালোবাসি।’
সানী ও মৌসুমীর সম্পর্কের শুরুর দিকের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সানী জানান, প্রথমবার যখন পরিচালক শেখ নজরুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে মৌসুমীর মোহাম্মদপুরের বাসায় যান, তখন অন্য ছবির ব্যস্ততার কারণে মৌসুমী সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। সেদিন মন খারাপ নিয়ে ফিরলেও, পরবর্তী সময়ে তাঁদের সম্পর্কের রসায়ন জমে ওঠে। আজ তিন দশক পেরিয়েও মৌসুমীর প্রতি সানীর ভালোবাসা অটুট রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মৌসুমীর কোন বিষয়টি ওমর সানীকে এখনো সবচেয়ে বেশি টানে—জানতে চাইলে ওমর সানী বলেন, ‘মৌসুমীর কেয়ারিং এবং ওর জিদটাও আমাকে ভীষণ টানে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমার একটু ধৈর্য কম, ওর একটু বেশি আছে।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হয়তোবা দুইটা পয়সার কারণে চাল-ডাল কিনে খায়।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ‘আসলে হয় কি, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কটা হচ্ছে একজন আরেকজনকে বিশ্বাস করা, স্যাক্রিফাইজ করা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বলে, তুমি তো এটা লস করছ, এটা করছ, এটাও করছ—দিনশেষে আমাদের কি কোনো জায়গা নেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপর আবার নিজেই বলবে—কী লাগবে, কী রকম লাগবে, কী করবা, কী করতে চাও। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সবকিছু মিলিয়ে মৌসুমী ভেরি কমফরট্যাবল।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সানী–মৌসুমীর এই সম্পর্কের শুরুটা অবশ্য এতটা সহজ ছিল না।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০