
ঘরোয়া ক্রিকেটের ফ্র্যাঞ্চাইজি আসরগুলোতে নিজস্ব দল পরিচালনার দীর্ঘদিনের প্রথা থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। অতীতে বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগে (বিসিএল) ‘বিসিবি উত্তরাঞ্চল’ নামে নিজস্ব দল পরিচালনা করলেও, এখন থেকে আর কোনো আসরেই বোর্ডের নিজস্ব দল থাকবে না। গতকাল বিসিবি’র টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর এই নতুন পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বিসিবি আর কোনো সরাসরি দল গঠন করবে না, কারণ এতে বোর্ডের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়।
নতুন এই কাঠামোর আওতায় এনসিএল টি-টোয়েন্টি, বিসিএল ওয়ানডে এবং চারদিনের ম্যাচ মিলিয়ে একটি প্যাকেজ তৈরি করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ (নাম চূড়ান্ত নয়) টুর্নামেন্টে মোট ছয়টি দল অংশ নেবে। এই দলগুলোর মালিকানা বা নেমিং রাইটস বিভিন্ন ব্যাংক ও করপোরেট হাউজের কাছে হস্তান্তর করা হবে। সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর জানান, এটি ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেল নয়, বরং স্পন্সরশিপভিত্তিক মালিকানা। এই প্রক্রিয়ায় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো ব্র্যান্ডিং ও প্রচারণার সুবিধা পাবে এবং বিনিময়ে প্রতি বছর বোর্ডকে আড়াই থেকে তিন কোটি টাকা প্রদান করবে।
আর্থিক সাশ্রয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, আগে এই তিনটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে বিসিবি’র প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয় হতো। নতুন প্রক্রিয়ায় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্ত করায় বোর্ডের খরচ কমে ১০ কোটি টাকায় নেমে আসবে এবং প্রথম বছরেই প্রায় ১৫ কোটি টাকা লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। বিপিএল মাঠে না গড়ানোর কারণে সূচিতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা পূরণ করতেই এই টুর্নামেন্টগুলো আয়োজন করা হচ্ছে। করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সর্বনিম্ন তিন বছরের দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি করা হবে বলে জানিয়েছেন আলমগীর।
ঘরোয়া ক্রিকেটের পুরনো অচলাবস্থা দূর করতে এই কাঠামোগত রূপান্তর অত্যন্ত জরুরি ছিল বলে মনে করে বোর্ড। নতুন এই মডেলে ড্রাফটের মাধ্যমে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পছন্দের খেলোয়াড় বেছে নিতে পারবে, যা দলগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করবে। এছাড়া, অনেক প্রতিষ্ঠান খেলোয়াড়দের চাকরির সুযোগসহ বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করবে, যা ক্রিকেটারদের আর্থিক অবস্থার উন্নতিতে সহায়ক হবে। বিসিবি’র লক্ষ্য হলো ঘরোয়া আসরের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা এবং দায়সারাভাবে টুর্নামেন্ট শেষ করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নানা কারণে এই প্রতিযোগিতা থেকে অসন্তোষ জানিয়ে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো সরে যেতে শুরু করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত আসরে চারটি দল নিজ খরচে পরিচালনা করে বিসিবি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে (বিপিএল) চট্টগ্রাম রয়্যালসের মালিক দল চালাতে অপারগতা জানিয়ে বিপিএল শুরুর আগে সরে যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে এবার এই ভুল করতে রাজি নয় বোর্ড। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সূচি সমন্বয় নিয়ে আলমগীর বলেন, ‘এই কাঠামোটি মূলত প্রতি বছরই ধারাবাহিকভাবে চলবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সর্বনিম্ন ৩ বছর মানে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা হবে।’ ঘরোয়া ক্রিকেটের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং দেশের ঘরোয়া টুর্নামেন্ট আয়োজনের পুরনো অচলাবস্থা দূর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ক্রিকেট বোর্ড।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০