
কক্সবাজার শহরের ঝাউতলা এলাকার রেনেসাঁ হোটেলের মদের বারে মাতাল অবস্থায় যুবকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন শহরের মধ্যম নুনিয়াছড়া এলাকার নাজিবুল হক রাশেদ এবং রুমালিয়ারছড়া এলাকার সোলাইমান ওরফে সালমান।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বারে বসে মদ্যপানের সময় রাশেদের সঙ্গে আনসার নামে এক যুবকের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে আনসার ফোন করে রাদি ও সালমানকে ডেকে আনলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে ভাঙা কাঁচের গ্লাসের আঘাতে রাশেদের গলা কেটে যায়। তাকে দ্রুত কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
রাশেদকে হত্যার পরপরই স্থানীয় উত্তেজিত জনতা ঘটনায় জড়িত সালমানকে ধরে ফেলে এবং প্রচণ্ড গণপিটুনি দেয়। এ সময় রাদি ও আনসার নামে অপর দুই অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। গণপিটুনির পর গুরুতর আহত সালমানকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। শুক্রবার ভোরে চট্টগ্রাম নেওয়ার পথে লোহাগড়া এলাকায় পৌঁছলে তার মৃত্যু হয়।
কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ এবং জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সাবুগতাকিন মাহমুদ সোহেল দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ঘটনার পর নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে জড়িতদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বলে জানা গেছে।
রেনেসাঁ হোটেলের ব্যবস্থাপক ফয়েজুল হক দাবি করেছেন, তাদের বারের বৈধ লাইসেন্স রয়েছে এবং তা ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত নবায়ন করা আছে। তিনি আরও জানান, সংঘর্ষে জড়ানো যুবকদের কয়েকজনের ব্যক্তিগত মদের লাইসেন্স ছিল, আবার কয়েকজনের ছিল না। ঢাকা থেকে অতিথি আসার অজুহাতে অনেকে বারে প্রবেশ করেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, বারটি অনুমোদনহীনভাবে চালানো হচ্ছিল। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলমান রয়েছে। নিহত দুইজনই স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এদের মধ্যে নাজিবুল হক রাশেদ শহরের মধ্যম নুনিয়াছড়া এলাকার মরহুম জয়নাল আবেদীন বহদ্দারের ছোট ছেলে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বার কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে কক্সবাজার থানা পুলিশ জানিয়েছে, নিহত রাশেদসহ কয়েকজন যুবক বারে বসে মদ পান করছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই সময় হঠাৎ নিজেদের মধ্যে তর্কাতর্কি ও ঝগড়া শুরু করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে সংঘর্ষে জড়ানো যুবকরা বাইরে থেকে আরও কয়েকজন যুবককে ডেকে আনেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গণপিটুনির পর তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঢাকা থেকে গেস্ট এসেছে বলে অনেকেই বারে ঢুকে পড়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যে কারণে ঘটনায় জড়িতদের বাসা-বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০