
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত বিকাশের ফলে কর্মক্ষেত্রে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কম্পিউটারে বসে করা নিয়মিত কাজের ক্ষেত্রে এআইয়ের প্রভাব স্পষ্ট। তবে সব পেশা সমান ঝুঁকিপূর্ণ নয়। যেসব কাজে সরাসরি মানুষের উপস্থিতি, হাতে-কলমে কারিগরি দক্ষতা, মানবিক আবেগ, বিচারবোধ ও সহমর্মিতার প্রয়োজন, সেসব পেশা এআইয়ের প্রভাব থেকে তুলনামূলক নিরাপদ।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসেবা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কর্মসংস্থান দ্রুত বাড়ছে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া সরকারের ২০২৬ সালের এক প্রতিবেদনেও শারীরিক শ্রম ও সরাসরি গ্রাহক সেবামূলক কাজের ঝুঁকি কম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বমানের বিভিন্ন সমীক্ষার আলোকে এআইয়ের যুগেও তুলনামূলক নিরাপদ ১০টি পেশা নিচে তুলে ধরা হলো
১. নার্স ও সরাসরি স্বাস্থ্যসেবা: রোগীর শারীরিক অবস্থা বোঝা, পাশে থাকা ও জরুরি পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের বিকল্প নেই। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশটিতে নার্স প্র্যাকটিশনারের কর্মসংস্থান ৪০.১ শতাংশ বাড়তে পারে। এছাড়া রোগীর শারীরিক নড়াচড়া পর্যবেক্ষণ ও ব্যক্তিগত চিকিৎসা সেবায় ফিজিক্যাল থেরাপিস্ট অ্যাসিস্ট্যান্টের পদ ২০৩৪ সালের মধ্যে ২২ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে।
২. মানসিক স্বাস্থ্য ও কাউন্সেলিং: মানুষের আবেগ বোঝা, সহানুভূতিশীল হয়ে কথা শোনা এবং বিশ্বাস ও সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে পরামর্শ দেওয়ার কাজটি মূলত মানবিক। এখানে এআই কেবল সহায়ক হতে পারে, কিন্তু মূল ভূমিকা মানুষেরই।
৩. শিক্ষকতা: পাঠ পরিকল্পনা বা প্রশ্ন তৈরিতে এআই সহায়তা করলেও শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর আচরণ বোঝা ও তাদের অনুপ্রাণিত করার কাজ কেবল শিক্ষকের পক্ষেই সম্ভব। দ্য গার্ডিয়ানের ২০২৬ সালের ‘সেইফ ফ্রম এআই’ প্রতিবেদনে শিক্ষকতাকে নিরাপদ পেশা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
৪. বিদ্যুৎ ও রক্ষণাবেক্ষণ: ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তারের জটিল সংযোগ পরীক্ষা, ত্রুটি শনাক্ত ও নিরাপত্তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাজ রোবট দিয়ে করানো অত্যন্ত কঠিন।
৫. প্লাম্বার ও রক্ষণাবেক্ষণকর্মী: ফক্স নিউজের ২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অফিসের কাজ ঝুঁকিতে থাকলেও দক্ষ কারিগরি কাজের চাহিদা বাড়ছে। রাজমিস্ত্রি ও কাঠমিস্ত্রির মতো পদে হাতে-কলমে কাজের সূক্ষ্ম দক্ষতার প্রয়োজন হয়, যা রোবট দিয়ে প্রতিস্থাপন করা অসম্ভব।
৬. সৌর প্যানেল স্থাপনকারী: নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে চাহিদা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ২০৩৪ সালের মধ্যে সৌর প্যানেল স্থাপনকারীদের কর্মসংস্থান ৪২.১ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
৭. টারবাইন রক্ষণাবেক্ষণ: উঁচু টারবাইন পরীক্ষা ও সরাসরি উপস্থিত হয়ে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ২০৩৪ সালের মধ্যে এ পেশায় কর্মসংস্থান ৪৯.৯ শতাংশ বাড়ার কথা বলা হয়েছে।
৮. পরিচর্যা ও সহায়তামূলক সেবা: বয়স্ক বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের যত্ন নেওয়ার জন্য মানবিক অনুভূতি অপরিহার্য। অস্ট্রেলিয়ার ২০২৬ সালের সরকারি বিশ্লেষণেও পরিচর্যাকারীদের কাজকে কম ঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়েছে।
৯. ইন্টার্নশিপ ও প্রশিক্ষণমূলক কাজ: বিদ্যুৎ বিভাগের মতো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্ন নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যেখানে মাসে ১০ হাজার টাকা ভাতা প্রদান করা হয়।
১০. প্রাথমিক শিক্ষা ও প্রশাসনিক সমন্বয়: প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রমের মতো প্রশাসনিক জটিলতা ও মানবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাজগুলো এআইয়ের আওতামুক্ত।
দ্য গার্ডিয়ানের আগস্ট ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যাপক হারে চাকরি হারানোর যে আশঙ্কা করা হয়েছিল, বাস্তবে তা ঘটেনি; বরং কাজের ধরন বদলাচ্ছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রযুক্তি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্লেষণী চিন্তা, সৃজনশীলতা, নমনীয়তা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতার গুরুত্ব বাড়ছে। তাই এআইয়ের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিজেকে দক্ষ করে তোলাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। চাকরির আরও তথ্য: বিদ্যুৎ বিভাগ নেবে ১৭ জন ইন্টার্ন, মাসে ভাতা ১০ হাজার। চাকরির আরও তথ্য: দ্য গার্ডিয়ানের আগস্ট ২০২৬-এর ‘এআই ওয়াজ সাপোজড টু ডেস্ট্রয় জবস। চাকরির আরও তথ্য: ভবিষ্যতে এই খাতের চাহিদা বহুগুণ বাড়বে। চাকরির আরও তথ্য: তথ্যসূত্র: ইউএস ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকস, ওয়াল্ড ইকোনোমিক ফোরাম, গার্ডিয়ান, ফক্স নিউজ। চাকরির আরও তথ্য: চাকরিতে কাজের চাপে বার্নআউট, যেভাবে সামলাবেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০