
ইরানের ওপর নতুন করে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার পারদ আরও চড়ছে এবং উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’ ঘোষণার কথা রয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে শুধু ইরান নয়, দেশটির প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার চীনও বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নতুন এই নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি চীনকে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হবে। কেপলারের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ইরান সমুদ্রপথে যে পরিমাণ তেল রপ্তানি করে, তার ৮০ শতাংশেরও বেশি চীন কিনে থাকে। তবে বেইজিং বরাবরই উভয় পক্ষকে কূটনৈতিক সমাধানের পথে হাঁটার পরামর্শ দিয়ে আসছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই সংঘাত প্রায় ছয় মাস ধরে চলছে। যদিও বর্তমানে সরাসরি কোনো সামরিক লড়াই নেই, তবে শান্তি আলোচনার পথও রুদ্ধ। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। ইরান হুমকি দিয়ে রেখেছে, অনুমতি ছাড়া কোনো তেলবাহী জাহাজ এই জলপথ ব্যবহারের চেষ্টা করলে তাতে হামলা চালানো হতে পারে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী তথ্যানুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার মাত্র চারটি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করেছে, যার কোনোটিই বড় তেলবাহী বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী জাহাজ ছিল না।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, গত সাত দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৮০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনে মার্কিন সামরিক বাহিনী সহায়তা করেছে। অথচ যুদ্ধের আগে এই পথ দিয়ে প্রতিদিন ২ কোটি ব্যারেলের বেশি তেল পরিবহন হতো, যা বিশ্বের মোট চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করত।
নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই শনিবার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি একে জাতিসংঘের স্বাধীন সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর ওয়াশিংটনের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের ‘গৌণ নিষেধাজ্ঞার’ আন্তর্জাতিক আইনে কোনো ভিত্তি নেই। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার সতর্ক করে বলেছেন, ইরানকে সহায়তা প্রদানকারী দেশগুলোকে অর্থনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। তিনি আরও জানান, ওয়াশিংটন বর্তমান সংঘাতের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ইরান এখনো সঠিক চুক্তির জন্য প্রস্তুত নয়।
ইরানের অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে এবং দেশটির নৌ ও বিমানবাহিনীর সক্ষমতাও হ্রাস পেয়েছে। তবে তেহরানের হাতে এখনো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের শক্তিশালী ভাণ্ডার রয়েছে, যা ব্যবহার করে তারা তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বাধা দিতে পারে। যুদ্ধের শুরু থেকে ট্রাম্পের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা এবং দেশটির ধর্মীয় শাসকদের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করা। তবে ২০২৫ সাল থেকে জাতিসংঘের পরিদর্শকদের ইরানে প্রবেশ করতে না দেওয়ায় দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা অস্পষ্ট রয়ে গেছে।
এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে যুদ্ধের প্রথম দিনেই ১৬৮ জন স্কুলশিক্ষার্থী নিহত হয়। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তাদের ১৮ জন সামরিক সদস্য নিহত এবং ৭৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি শুক্রবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেকোনো হুমকির জবাব হবে কঠোর, শাস্তিমূলক ও ধ্বংসাত্মক।
তবে একই সময়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরান এখন শক্তিশালী অবস্থানে আছে এবং মর্যাদা বজায় রেখেই যুদ্ধ শেষ করা সম্ভব। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করে ইরানের স্কুল, হাসপাতাল ও অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে ওয়াশিংটনের প্রতি বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফও যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সামরিক শক্তির পাশাপাশি দেশের উৎপাদন ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সচল রাখা জরুরি, কারণ মানুষ না খেয়ে থাকলে কোনো দেশ টিকে থাকতে পারে না। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলা আলোচনায় কালিবাফ ইরানের প্রধান আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মন্ত্রণালয় বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন, নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী কে পেলেন কোনটি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২২ বল করেই পাঁচ উইকেট নিলেন স্টার্ক, কাঁপছে বাংলাদেশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ম্যাকাই টেস্ট / চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে দুঃস্বপ্নের সেশন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যা আছে রাষ্ট্রপতির শপথে, গোপনীয়তার শপথ নেই যে কারণে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর আগে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শত শত জাহাজে থাকা হাজার হাজার নাবিক সেখানে আটকা পড়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আঞ্চলিক প্রতিপক্ষের ওপরও হামলা চালাতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০