
বিংশ শতাব্দীর রুশ বিপ্লবের মূল কারিগর ভ্লাদিমির লেনিন ১৯১৭ সালের বসন্তকালে জার্মানির সহায়তায় ২৯ জন রুশ বিপ্লবীসহ একটি বিশেষ ‘সিলড’ ট্রেনে করে রাশিয়ায় ফিরে আসেন। ৯ এপ্রিল জুরিখ থেকে যাত্রা শুরু করে সুইডেনের হাপারান্দা হয়ে ১৬ এপ্রিল রাতে তিনি পেট্রোগ্রাদের ফিনল্যান্ড স্টেশনে পৌঁছান। সেখানে শ্রমিক ও সৈন্যদের বিশাল অভ্যর্থনা পাওয়ার পর তিনি বুর্জোয়া সরকার উৎখাতের ডাক দেন। পরবর্তীতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে তিনি ছদ্মবেশে ফিনল্যান্ডে পালিয়ে যান। ২৪ অক্টোবর রাতে সেই ছদ্মবেশী লেনিনই পুলিশের নজরদারি এড়িয়ে স্মলনি ইনস্টিটিউটে প্রবেশ করেন, যা ২৫ অক্টোবর বলশেভিকদের উইন্টার প্যালেস দখলের পথ প্রশস্ত করে এবং বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তি স্থাপন করে।
উপমহাদেশের ইতিহাসে ১৯৪১ সালের জানুয়ারিতে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর গৃহবন্দি দশা থেকে পলায়ন এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের কড়া নজরদারি এড়িয়ে ১৬ জানুয়ারি মধ্যরাতে তিনি কলকাতার এলগিন রোডের বাসভবন থেকে বেরিয়ে পড়েন। তিনি ‘জিয়াউদ্দিন’ নামক এক বিমা কোম্পানির ট্রাভেলিং এজেন্টের ছদ্মবেশ ধারণ করেন। ১৭ জানুয়ারি ভোরে তিনি গাড়িযোগে বিহারের বারারীর দিকে রওনা হন এবং গোমোহ স্টেশন থেকে দিল্লি-কালকা মেইল ট্রেনে চড়ে পেশোয়ার পৌঁছান। সেখানে মিয়াঁ আকবর শাহের সহায়তায় ভগতরাম তলোয়ারের সঙ্গে পাহাড়ি পথে প্রায় ২০০ মাইল পাড়ি দিয়ে ৩১ মার্চ কাবুলে পৌঁছান। এই দুঃসাহসিক যাত্রার পর ১৯৪৩ সালে তিনি আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
১৯৬৮ সালের মে মাসে ফ্রান্সে ছাত্র আন্দোলন ও শ্রমিক ধর্মঘটে যখন স্থবিরতা নেমে আসে, তখন প্রেসিডেন্ট শার্ল দ্য গল ২৯ মে হঠাৎ প্যারিস থেকে উধাও হয়ে যান। গোয়েন্দা সংস্থা ও এলিজি প্রাসাদের কর্মীরাও জানতেন না তিনি কোথায়। মূলত তিনি জার্মানিতে অবস্থানরত জেনারেল জ্যাক মাসুর সঙ্গে দেখা করে সেনাবাহিনীর সমর্থন নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন। সামরিক সমর্থন পাওয়ার পর ৩০ মে তিনি প্যারিসে ফিরে আসেন এবং কঠোর হাতে বিশৃঙ্খলা দমনের ঘোষণা দেন। এই নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান সুসংহত করেন।
১৯৭১ সালের জুলাই মাসে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জার এশিয়া সফরের সময় পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অসুস্থতার ভান করে নাটকীয়ভাবে বেইজিংয়ে উড়ে যান। ৯ জুলাই তিনি গোপনে চীনের নানইউয়ান বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী চৌ এনলাইয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই গোপন আলোচনার মাধ্যমেই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন যুগের সূচনা হয়। ১১ জুলাই তিনি ইসলামাবাদে ফিরে আসেন এবং ১৫ জুলাই প্রেসিডেন্ট নিক্সন টেলিভিশনে এই ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা ঘোষণা করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ক্ষমতার দম্ভ, গোয়েন্দা নজরদারির নিখুঁত জাল কিংবা রাজনীতির পিচ্ছিল গতিপথের সংযোগে ইতিহাসের পাতা ওল্টালে এমন কিছু অধ্যায় সামনে আসে, যা যেকোনো রোমাঞ্চকর উপন্যাসকেও হার মানায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাষ্ট্রক্ষমতা হারানো বা চরম রাজনৈতিক সংকটের মুখে অনেক নেতাকেই ছাড়তে হয়েছে নিজ দেশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কেউ আবার দীর্ঘ নির্বাসন শেষে ফিরেছেন নতুন রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই যাওয়া-আসার খেলায় কেউ ব্যবহার করেছেন সাধারণ শ্রমিকের ছদ্মবেশ, কেউ আশ্রয় নিয়েছেন পণ্যবাহী ট্রাকের পেটে, আবার কেউ হেলিকপ্টারে চড়ে চোখের পলকে সীমান্ত পার হয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইতিহাসের গতিপথ বদলে দেওয়া এমন কিছু বিশ্বনেতার গোপন প্রস্থান, ছদ্মবেশ এবং নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের অবিশ্বাস্য সব কাহিনী কেমন ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইউরোপ তখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগুনে জ্বলছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অন্যদিকে রাশিয়ার রাজধানী পেট্রোগ্রাদে (বর্তমান সেন্ট পিটার্সবার্গ) শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলা জারতন্ত্রের পতন ঘটেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০