
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলে রাজত্ব করার পর আন্তর্জাতিক আঙিনাকে বিদায় জানালেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। নিজের ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে এসে তিনি স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিয়েছেন, জাতীয় দলের হয়ে তার আর নতুন করে কিছু দেওয়ার নেই। কোচ লিওনেল স্কালোনি যদিও তার ফেরার সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন, তবে মেসি আপাতত সেই পথ বন্ধ রেখেছেন। আর্জেন্টিনার জার্সিতে বেনিনের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি খেলে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানো এই তারকা এখন নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বেশ মনোযোগী। যদিও জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়েছেন, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লীগ সকারের ক্লাব ইন্টার মায়ামির সঙ্গে ২০২৮ সাল পর্যন্ত তার চুক্তির মেয়াদ রয়েছে। শারীরিক ও মানসিক ফিটনেস অটুট থাকলে এই চুক্তির সময়সীমা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে আর্জেন্টিনার জার্সিতে বেনিনের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ খেলতে নামেন রেকর্ড গোলদাতা ও সর্বাধিক ম্যাচ খেলা এই মহাতারকা। গত আগস্টে মৃত্যুবরণ করেন তার পিতা হোর্হে মেসি।
মাঠের বাইরে মেসির নতুন লক্ষ্য এখন যুব ফুটবলারদের গড়ে তোলা। বিশেষ করে তরুণদের মাঝে ফুটবলের অনুপ্রেরণা জোগাতে তিনি 'মেসি কাপ' আয়োজনে নিয়মিত ভূমিকা রাখছেন। ফ্লোরিডায় অবস্থিত মায়ামির নিজস্ব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে বিশ্বের বাঘা বাঘা ক্লাবগুলো অংশগ্রহণ করে। গত বছর অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, চেলসি, বার্সেলোনা ও ইন্টার মিলানের মতো জায়ান্ট ক্লাবের অনূর্ধ্ব-১৬ একাডেমির অংশগ্রহণে গ্যালারিতে মেসির উপস্থিতি ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে বিশেষ উন্মাদনা তৈরি করেছিল। এছাড়া নিজের সন্তানদের খেলার প্রতি আগ্রহ থেকেও তিনি নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের বিকাশে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখার পরিকল্পনা করছেন। বৃটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র এক বিশেষ প্রতিবেদনে উন্মোচিত হয়েছে মেসির ইন্টার মায়ামি অধ্যায়ের পরের জীবনের এক আকর্ষণীয় ও অনুপ্রেরণাদায়ক চিত্র।
ব্যবসায়িক পরিমণ্ডলে মেসির সাফল্য এখন ঈর্ষণীয়। ফোর্বসের তথ্যমতে, গত জুন মাস নাগাদ তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১০ কোটি ডলারে। তার এই বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে বহুবিধ বিনিয়োগের মাধ্যমে। অ্যাথলেটিক ব্র্যান্ড অ্যাডিডাসের সঙ্গে আজীবন চুক্তির পাশাপাশি রিয়েল এস্টেট ও হোটেল ব্যবসায় তার বড় অঙ্কের বিনিয়োগ রয়েছে। ইবিজা ও অ্যান্ডোরাসহ বিভিন্ন স্থানে তার ছয়টি বুটিক হোটেলের চেইন 'এমআইএম হোটেলস' বেশ পরিচিত। এছাড়া রোজারিওতে 'কার্লাসকো এম' হাউজিং প্রজেক্টে তার পরিবারের বিনিয়োগ রয়েছে, যেখানে ঘনিষ্ঠ বন্ধু আনহেল ডি মারিয়ার প্রপার্টি এজেন্সি বিক্রয় ও বিপণনের কাজ দেখাশোনা করে। এর বাইরে স্ট্যানলি ব্র্যান্ডের সঙ্গে তার 'মেটে' কালেকশন এবং কাতালুনিয়ায় 'এল ক্লাব দে লা মিলানেসা' রেস্তোরাঁ চেইন ব্যবসার পরিধি আরও বিস্তৃত করেছে।
বাবার হাত ধরে গড়ে ওঠা এই ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য এখন মেসি নিজেই দক্ষ হাতে পরিচালনা করছেন। টিভি প্রোডাকশন থেকে শুরু করে মার্কেটিং এবং বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিশ্বস্ত সহযোগীদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। সম্প্রতি মায়ামির একটি বিজনেস ফোরামে নিজের ব্যবসায়িক আগ্রহের কথা বলতে গিয়ে মেসি বলেন, ব্যবসা এমন একটি ক্ষেত্র যা তাকে প্রবলভাবে টানে। তিনি ব্যবসার খুঁটিনাটি সম্পর্কে আরও জানতে আগ্রহী এবং নিজেকে একজন শিক্ষার্থী হিসেবেই বিবেচনা করেন। গত আগস্ট মাসে পিতার মৃত্যুর পর এখন তিনি ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে এক নতুন জীবনের পথে পা বাড়িয়েছেন, যেখানে ফুটবলের জাদুকরী অধ্যায়ের বাইরে ব্যবসায়িক সাফল্যই তার প্রধান আগ্রহের জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি আরও শিখতে চাই, কারণ আমি এখনো একেবারে শুরুতেই আছি।’।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০