
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অস্ত্র হাতে একদল কিশোরের স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে কুমিল্লায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, কয়েকজন কিশোর রামদা, চাপাতি ও ছেনিসহ বিভিন্ন দেশি অস্ত্র নিয়ে ‘এসবিএস’ নামক একটি গ্যাংয়ের পক্ষে মহড়া দিচ্ছে। নিজেদের আধিপত্য ও অবস্থান জানান দেওয়ার উদ্দেশ্যে গত শুক্রবার কুমিল্লার টমছম ব্রিজ এলাকার একটি পরিত্যক্ত ভবনের ছাদে তারা ভিডিওটি ধারণ করে বলে পুলিশের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। গ্যাংটির সদস্যরাই সেটি নিজেদের অবস্থান জানান দিতে প্রচার করে। এরপর বলা হয়, ‘ওই সেই ট্রেন্ড, এসবিএস। পরে সবাই মিলে ‘জোরে বলো এসবিএস, এসবিএস, এসবিএস’ বলে স্লোগান দেন। রাতের কুমিল্লায় ফিরেছে স্বস্তি, কিশোর গ্যাংয়ের দাপট কমলেও শঙ্কা কাটেনি।
পুলিশ জানিয়েছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি নজরে আসার পর জেলা পুলিশের একটি দল বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে মো. শাওন (১৯) নামের এক তরুণ রয়েছেন, যিনি ‘এসবিএস’ গ্যাংয়ের সদস্য এবং ‘সিটিজি’ নামের অন্য একটি গ্রুপের অ্যাডমিন হিসেবে পরিচিত। শাওনের স্থায়ী বাড়ি বরুড়া উপজেলার এগারো গ্রামে হলেও বর্তমানে তিনি নগরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের উনাইসার এলাকায় তোফাজ্জল নামের এক ব্যক্তির বাসায় ভাড়া থাকেন। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের একজন মো. শাওন (১৯)। নতুন করে আলোচনায় আসা ‘এসবিএস’ গ্যাংয়ের চার সদস্যকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত অন্য তিনজনের বয়স ১৭ বছর। তারা সবাই কিশোর অপরাধী দলের সক্রিয় সদস্য। তাদের মধ্যে একজনের বাড়ি লালমাই এলাকায়, একজনের বাড়ি হবিগঞ্জে এবং তৃতীয়জনের বাড়ি নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায়। বর্তমানে তারা সবাই নগরের উনাইসার এলাকার ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিল। ভিডিওতে অনেকের মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা থাকলেও তাদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ। ভিডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘ওই উনাইসারে কোনো ট্রেন্ড আছে রে। গ্যাংটির অন্য সদস্যদেরও দ্রুত আটকের চেষ্টা চলছে।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম জানান, কিশোর অপরাধ বা গ্যাং কালচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই মামলা রয়েছে। নতুন এই অপরাধের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের কোনো ধরনের দৌরাত্ম্য সহ্য করা হবে না। এই ঘটনায় জড়িত চারজনকে এরই মধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং গ্যাংয়ের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে। যেকোনো ধরনের কিশোর অপরাধ দমনে পুলিশের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০