অভিনেত্রী ম্রুণাল ঠাকুরের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘পূজা মেরি জান’ শুটিং শেষ হওয়ার প্রায় চার বছর পর দর্শকদের মাঝে মুক্তি পেয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষায় থাকা এই সিনেমাটি বর্তমানে দর্শকের কাছে পৌঁছেছে এবং ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে। সিনেমাটির বিষয়বস্তু এবং গল্পের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বেশ আশাবাদী ম্রুণাল, কারণ তার মতে এর আবেদন বর্তমান সময়েও অটুট এবং ভবিষ্যতে তা বজায় থাকবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্রুণাল বলেন, ‘সীতা রামম’ সিনেমার পর তার ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল এই সিনেমাটি। তিনি এটিকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসা দিয়ে লালন করেছেন। দীর্ঘ সময় মুক্তি পিছিয়ে গেলেও সিনেমাটির প্রতি তার আবেগ বা আগ্রহের বিন্দুমাত্র কমতি ঘটেনি। তিনি জানান, সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ায় এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়ায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। বর্তমানে নিজের অভিনয় পর্দায় দেখে কতটা বদলেছেন, সেটিও নতুন করে উপলব্ধি করেছেন ম্রুণাল।
সিনেমাটি মুক্তি পেতে চার বছর সময় লাগায় ম্রুণালের অভিনয় জীবনেও বেশ পরিবর্তন এসেছে। তার আগের সময়ের অভিনয় দর্শকদের কাছে কেমন লাগবে—এমন প্রশ্নে ম্রুণাল অকপটে স্বীকার করেন যে, তিনি বিষয়টিকে আগে এভাবে দেখেননি। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, সবকিছু সবসময় মানুষের ইচ্ছা অনুযায়ী ঘটে না। তাই তিনি একরকম আত্মতৃপ্তির জায়গা থেকেই বলেন, যা যখন ঘটার তা তখনই ঘটবে এবং তিনি এই বর্তমান প্রাপ্তিতেই সুখী। তবে, বুঝেছি, সবকিছু সব সময় আমাদের ইচ্ছামতো হয় না। তাই আমি ঈশ্বরের সঙ্গে একটা চুক্তি করেছি; যা যখন হওয়ার, তখনই হোক।
পর্দার চরিত্রটি নিয়ে ম্রুণাল বলেন, কিছু দৃশ্য শুটিংয়ের সময় যেভাবে করেছিলেন, আজ করলে হয়তো তা ভিন্নভাবে ফুটিয়ে তুলতেন। তার ভাষায়, হয়তো অনেক দৃশ্য এখন আরও সহজ বা সাবলীলভাবে করা সম্ভব ছিল। তবে সহশিল্পী বিক্রম এবং পরিচালক নবজ্যোতের মতে, ওই সময়ের সেই অসহায় ও স্বতঃস্ফূর্ত অনুভূতিই চরিত্রটির জন্য প্রয়োজন ছিল। তাই দর্শক ম্রুণালের অভিনয়ের এক ভিন্নধর্মী ও নিখাদ রূপ উপভোগ করছেন। হয়তো আজ দৃশ্যগুলো আরো সহজভাবে করতে পারতাম। তাই আমার মনে হয়, দর্শকেরা আমার অভিনয়ের একটি ভিন্ন রূপ দেখতে পেয়েছেন।
দীর্ঘ বিরতির পরও শুটিংয়ের প্রতিটি মুহূর্ত ও খুঁটিনাটি স্মৃতি এখনো ম্রুণালের মনে সতেজ। তিনি জানান, এমনকি শুটিংয়ের সময় কী ডায়েট অনুসরণ করতেন বা কী খাবার খেয়েছিলেন, তাও তার স্পষ্ট মনে আছে। ব্যক্তিগতভাবে নিজের ভালোবাসা পাওয়া কাজগুলোকে আগলে রাখতে পছন্দ করেন তিনি। এই সিনেমাটি তার কাছে এতটাই বিশেষ যে ফোন বদল করলেও এর পুরোনো স্মৃতিগুলো তিনি পরম যত্নে রেখে দিয়েছেন এবং এই কাজের জন্য তিনি গর্বিত। জানেন, কাউকে ভালোবাসলে তার ভালো দিকগুলোই বেশি মনে থাকে, কারণ সেগুলোই জীবনের সেরা স্মৃতি। সেসব স্মৃতি আবার দেখতে গিয়ে, পুরোনো দিনে ফিরে গিয়ে সবকিছু একেবারে নতুন মনে হয়েছে।
সিনেমার প্রথম দৃশ্যের কথা স্মরণ করে ম্রুণাল জানান, দিল্লির ইম্পেরিয়াল হোটেলে বিক্রমের সঙ্গে একটি আবেগঘন দৃশ্যের মাধ্যমে তাদের কাজ শুরু হয়েছিল। চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে তাকে বেশ চ্যালেঞ্জিং কিছু পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তিনি জানান, ২০১৬-১৭ সালের দিকে পরিচালক নবজ্যোত যখন এর পাণ্ডুলিপি লিখেছিলেন, তখন তারা কল্পনাও করেননি যে এটি বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে এত বড় সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।
ম্রুণাল বিশেষভাবে খুশি যে সিনেমাটি দেখার পর অনেকেই, বিশেষ করে তরুণ দর্শকরা তাদের ভুল বুঝতে পারছেন। তিনি জানান, অনেক ছেলে দর্শক তাকে জানিয়েছেন যে তারা আগে ‘না’ শব্দের গুরুত্ব বুঝতেন না এবং নারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেন। এখন এই সিনেমাটি তাদের সেই ভুল দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে, যা ম্রুণালের জন্য বড় তৃপ্তির জায়গা।
ব্যক্তিগত জীবন ও গুঞ্জন প্রসঙ্গে ম্রুণাল কিছুটা ক্ষোভের সঙ্গেই বলেন, মানুষের বর্তমান জীবনে যখন কোনো বিতর্ক পাওয়ার সুযোগ থাকে না, তখন তারা অতীতের দিকে নজর দেয়। তার ক্ষেত্রেও ঠিক এমনটি ঘটছে। তিনি জানান, বর্তমানে কোনো মানুষের সাথে হাসিমুখে কথা বললেই বা কারো হাত ধরলেই সংবাদমাধ্যম বা সাধারণ মানুষ প্রেমের সম্পর্ক জড়িয়ে ফেলে, যা সত্যিই হতাশাজনক।
অভিনেত্রী জোর দিয়ে বলেন, তিনি লুকোচুরি পছন্দ করেন না এবং যাদের ভালোবাসেন তাদের সবার সামনে তুলে ধরতেই পছন্দ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি অত্যন্ত সক্রিয় হওয়া সত্ত্বেও কেন তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানো হয়, তা তার বোধগম্য নয়। তিনি মনে করেন, মানুষের বিচারমূলক দৃষ্টিভঙ্গি এবং অহেতুক ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি।
ম্রুণাল জানান, যখন একা কফি খেতে যান এবং সেখানে কয়েকজন মানুষ উপস্থিত থাকেন, তখন তাকে ওই সবার সাথেই সম্পর্কে জড়িয়ে দেওয়া হয়। তিনি এমন পৃথিবীতে বসবাসের বিষয়টি নিয়ে কিছুটা বিরক্ত। তার মতে, নিজের কাজের চেয়ে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মানুষের এই অতিরিক্ত আগ্রহ বন্ধ হওয়া উচিত।
গত ২ অক্টোবর জি-ফাইভে সিনেমাটির প্রিমিয়ার হওয়ার পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সিনেমার সাফল্যে তিনি খুশি এবং আশা করছেন, এই ধরনের সামাজিক বার্তা বহনকারী সিনেমা সমাজের মানুষের চিন্তাধারায় পরিবর্তন আনতে সাহায্য করবে।

