জলঢাকায় লাল ওরনা পরায় ছাত্রীকে মেরে কান ফাটিয়ে দিয়েছেন শিক্ষিকা

0
68

নীলফামারী প্রতিনিধি।।

নীলফামারী জলঢাকায় লাল ওরনা পরে আসার কারণে সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে মেরে কান ফাটিয়ে দিয়েছেন শিক্ষিকা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্হানীয় ভাবে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ না হওয়ায় ওই ছাত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মীরগন্জহাট বহুমুখী উচ্চ বিদ‍্যালয়ে।

সরেজমিনে ও অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে ওই বিদ‍্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা জেসমিন বেগম সপ্তম শ্রেণীর ক্লাস নেওয়ার সময় ছাত্রী সিমা আক্তার লাল ওরনা পরে আসা ও পাঠদানে অমনোযোগী হওয়ার কারণে হাত দিয়ে গালে, কানে, মাথায় স্বজোরে আঘাত করে। এবং অশালীন ভাবে গালিগালাজ করে।

সিমা ঘটনা ভয়ে বাড়িতে বলে নি। পরে কান থেকে পুজ বেড়ালে শিক্ষিকার হাতে মার খাওয়ার বিষয়টি মাকে খুলে বলে সিমা। মা সাইদা বেগম ওই শিক্ষকার কাছে গেলে চিকিৎসার আশ্বাস দেয়। পরে আর খোঁজ খবর করেনি। সিমা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন আমি মীরগন্জহাট বহুমুখী উচচ বিদ‍্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর খ শাখার ছাত্রী। আমার রোল নং ৯৮।

ঘটনার দিন লাল ওরনা পরে গেছি বলে ক্লাসে ম‍্যাডাম আমাকে গালে কানে মাথায় অনেক মেরেছে। আর বলে লাল ওরনা পরেছিস ছেলেদের দেখানোর জন্য। আরও অনেক কিছু বলে গালিগালাজ করছে। তখনই আমি কানে ব‍্যাথা পাই। সিমার মা সাইদা বেগম বলেন আমি ওই শিক্ষিকার কাছে গেলে বলে বিষয়টি বাড়াবাড়ি করিয়েন না। আমি একটি ব‍্যাবস্হা করব।

পরে আমি এলাকার ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করালে কোনো উন্নতি হয়নি। কান দিয়ে পুজ বাইর হচ্ছে। সিমার কানের নিচে ফুলে গেছে। জ্বরও এসেছে। তাই তাকে রংপুর নিয়ে যাচ্ছি। আমার মেয়ে যদি টসা( বয়ড়া) হয়ে যায় তাহলে কিভাবে বিয়ে দেব। অভিযুক্ত ওই শিক্ষিকা জেসমিন বেগম বলেন সিমা আমার ক্লাসের ছাত্রী না। ও বহিরাগত বলতে পারেন।

আর আমি ওকে ওভাবে মারিনি। ঘটনার বিষয়টি স্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন ঘটনাটি গত মাসের হয়ত ব‍্যাথা এতোদিন ছিল না। এখন কান দিয়ে পুজ বের হচ্ছে। তবে আমি সীমাকে দেখার জন্য লোক পাঠিয়েছি দু হাজার টাকা সহ চিকিৎসার জন্য। ম‍্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোশফেকুর রহমান লিটন বলেন রোগীর চিকিৎসা শেষ হলে ওই শিক্ষিকা জেসমিনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব‍্যাবস্হা গ্রহণ করা হবে।

এ ব‍্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার চঞ্চল কুমার ভৌমিক বলেন কোনো শিক্ষার্থীকে শারীরিক মানষিক নির্যাতন করা আইনগত অপরাধ। আমি ওই শিক্ষিকাকে শোকজ করার জন্য প্রধান শিক্ষককে বলেছি। তারপরও লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব‍্যাবস্হা গ্রহণ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here