অসুস্থ হয়ে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় অভিনেতা বিজয় চৌধুরী। হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়, বর্তমানে তিনি সেখানকার পিসিসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার ছেলে সাবিদ বিন আবু আজাদ চৌধুরী জানান, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মানিকগঞ্জের সিংগাইরে এক আত্মীয়ের দাওয়াতে গিয়ে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করেন তার বাবা। সেখান থেকে দ্রুত তাকে ঢাকায় নিয়ে এসে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরীক্ষায় চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন যে তিনি হার্ট অ্যাটাক করেছেন। সাবিদ বলেন, “গতকাল বৃহস্পতিবার আব্বু তার এক ভাগ্নের দাওয়াতে সিংগাইর গিয়েছিলেন।
বাবার দ্রুত সুস্থতার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন বিজয় চৌধুরীর মেয়ে ফিওনা ইসলাম। তিনি সবার কাছে আবেদন জানিয়েছেন যেন মহান সৃষ্টিকর্তা তার বাবাকে দ্রুত বিপদ-আপদ থেকে মুক্ত করে সুস্থ জীবন দান করেন। এই মুহূর্তে হাসপাতালের পিসিসিইউতে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এই অভিনেতা। সকলের কাছে আন্তরিকভাবে দোয়ার আবেদন রইল। আল্লাহ যেন আমার বাবাকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন।
চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে বিজয় চৌধুরী নামটি বড় পর্দার ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এর রইছ চরিত্র হিসেবেই সবচেয়ে বেশি পরিচিত। প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের উপন্যাস অবলম্বনে চাষী নজরুল ইসলাম নির্মিত এই সিনেমাটি ১৯৯৭ সালে মুক্তি পায়। প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও সিনেমাটির রইছ চরিত্র এবং এর শেষ দৃশ্যে বিজয় চৌধুরীর অভিনয় দর্শকদের মনে আজও সমানভাবে গেঁথে আছে। এই একটি মাত্র চরিত্র তাকে দর্শকদের কাছে অসামান্য পরিচিতি এনে দিয়েছিল। বিশেষ করে শেষ দৃশ্যে রইছের আত্মত্যাগ দর্শকের মনে গভীর ছাপ ফেলে।
অভিনেতার পারিবারিক পরিচয় ও কর্মজীবন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৭৩ সালে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে জন্ম নেওয়া এই অভিনেতার নাম রাখা হয়েছিল ‘বিজয়’। রাজধানীর দক্ষিণ বাড্ডায় বেড়ে ওঠা বিজয় চৌধুরীর চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৩ সালে রায়হান মুজিব পরিচালিত ‘প্রেমপ্রীতি’ সিনেমার মাধ্যমে। এরপর কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করলেও ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত কাজ হয়ে ওঠে। মজার বিষয় হলো, মাত্র ২২ বছর বয়সে রইছ চরিত্রে অভিনয় করার পর তিনি আর নতুন কোনো চলচ্চিত্রে কাজ করেননি, অভিনয় থেকেও ধীরে ধীরে দূরে সরে যান। ১৯৭৩ সালে স্বাধীনতার পর জন্ম নেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তার নাম রাখেন ‘বিজয়’।
ব্যক্তিজীবনে ১৯৯৬ সালে সালমা চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন বিজয় চৌধুরী। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তার বাবা মোহাম্মদ মনির চৌধুরী একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী এবং মা মিনা চৌধুরী গৃহিণী। পর্দায় রইছ হিসেবে অমর হয়ে থাকা এই অভিনেতার বর্তমান শারীরিক অবস্থার দিকে নজর রাখছেন তার পরিবারের সদস্য ও ভক্তরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০