
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্যাটেলাইট সংযোগ সেবা 'স্টারশিল্ড' পুনরায় চালু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এর আগে গত মঙ্গলবার থেকে বুধবারের মধ্যে এই সেবা বিঘ্নিত হয়েছিল, যার ফলে সামরিক যোগাযোগ ও অভিযানে সমস্যা সৃষ্টি হয়। এই বিঘ্ন ঘটার কারণ জানতে কিয়েভ কর্তৃপক্ষ স্টারশিল্ডের মূল প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। তবে স্পেসএক্স প্রধান ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। দেশটিতে ১০০টির বেশি ড্রোন ও পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় বলে ইউক্রেন জানিয়েছে।
প্রযুক্তিগতভাবে স্টারশিল্ড হলো ইলন মাস্কের স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবার একটি সামরিক সংস্করণ। স্পেসএক্স পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে প্রায় ১১ হাজার স্যাটেলাইট স্থাপন করেছে, যা ব্যবহার করে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা পাওয়া যায়। ২০১৯ সালে স্টারলিংক চালুর তিন বছর পর ২০২২ সালে মার্কিন সরকারের কৌশলগত প্রয়োজন মেটাতে স্টারশিল্ড তৈরি করা হয়। এটি সাধারণ স্টারলিংকের চেয়ে আলাদা কারণ এতে সংবেদনশীল তথ্য আদান-প্রদানের জন্য উন্নত এনক্রিপশন ব্যবস্থা রয়েছে এবং এটি বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সংস্থা ও সরকারি অংশীদারদের ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হয়েছে।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী স্টারশিল্ডের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। বিশেষ করে ড্রোন পরিচালনা এবং রণক্ষেত্রে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে এই স্যাটেলাইট সংযোগ ছাড়া ইউক্রেনের পক্ষে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানো কঠিন। কিয়েভের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের দাবি, সম্প্রতি এই সেবা বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়টি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না, বরং এটি ছিল একটি পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত।
ইলন মাস্ক তার প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে, সেবাটি সম্পূর্ণরূপে মার্কিন সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তার মতে, স্টারশিল্ড ব্যবহারে যেকোনো বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ওপর নির্ভর করে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, ওয়াশিংটন এখনো ইউক্রেনকে গোয়েন্দা সহায়তা প্রদান করছে।
তবে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কে সম্প্রতি টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ না করলে যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে জ্বালানি চুক্তি ও যুদ্ধবিরতির কথা বললেও, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে দাবি করেছেন জেলেনস্কি। এই পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসার পাশাপাশি ইউক্রেনের নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয়েও তার মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ওই সেবায় বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল বলে খবরে প্রকাশ পায়। রাশিয়ার ডিজেল নিতে গিয়ে কেন কূটনৈতিক সংকটে ট্রাম্প। ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হলে কেবল সেদিন হামলা বন্ধ রাখতে রাজি রাশিয়া।
অন্যান্য সংবাদের মধ্যে, সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, গত চার বছরে ১৮টি লোকোমোটিভ অচল হয়ে পড়ায় বাংলাদেশ রেলওয়ে ৬শ' ৮০ কোটি টাকার রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি করতে আগ্রহী। অন্যদিকে, গাজা ও লেবাননে ২৫৪ জন নিহতের ঘটনায় আইডিএফ এখনো কোনো তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেনি বলে বিবিসি ভেরিফাই জানিয়েছে। পাশাপাশি, রাশিয়া ডিজেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে। নারী হেনস্তার বিরুদ্ধে 'নো মোর সাইলেন্স' নামক একটি উদ্যোগ কাজ করছে এবং জাতীয় দলে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ক্রিকেটার জাহানারা আলম। ৪ বছরেই অচল ১৮ লোকোমোটিভ, রক্ষণাবেক্ষণে ৬৮০ কোটির চুক্তি করতে চায় রেল। ফেসবুকে নারী হেনস্তাকারীদের পরিচয় সামনে আনছে ‘নো মোর সাইলেন্স’। এর আগে ইউক্রেনে ব্যাপক হামলা চালায় রাশিয়া।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০