
সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র ইয়ানবু বন্দরের নিরাপত্তায় সেনা ও অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। গত বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের টিএফ১ এবং ফ্রান্স ২ টেলিভিশন চ্যানেলের এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই পরিকল্পনার কথা জানান। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার পরিস্থিতিতে লোহিত সাগর তীরবর্তী ইয়ানবু বন্দরটি সৌদি তেলের বিকল্প রপ্তানি পথ হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ম্যাখোঁ বলেন, 'আমি এটি অস্বীকার করছি।
ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে এই বন্দরটি বর্তমানে চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ম্যাখোঁ স্পষ্ট করেছেন যে, এই সামরিক সরঞ্জাম ও বাহিনী কেবল স্থাপনাটির সুরক্ষার জন্যই মোতায়েন করা হবে, কোনো প্রকার সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়। সেখানে রাডার ব্যবস্থা ও বিশেষ প্রতিরক্ষা বাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে তিনি জানান। কোনো সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়, বরং এই স্থাপনাটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই আমরা এটি পাঠাচ্ছি।
একই সাক্ষাৎকারে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ম্যাখোঁ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার যে কোনো উদ্যোগ বিশ্ব ও মার্কিন অর্থনীতির জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে। অবশ্য হোয়াইট হাউস বর্তমানে এমন কোনো পরিকল্পনা নেই বলে দাবি করেছে। ফ্রান্সে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকটের বিষয়ে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, আসন্ন শীতের জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস ও তেলের মজুত তাদের রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে সরকার কঠোর পরিশ্রম করছে।
ইউরোপে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকির বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোকে সাইবার ও ড্রোন হামলা থেকে রক্ষার জন্য একটি বিশেষ পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এল মুন্দো-তে প্রকাশিত সিআইএ-র সতর্কবার্তা বিষয়ক প্রতিবেদনটি তিনি নাকচ করে দেন। সিআইএ ফরাসি গোয়েন্দাদের এমন কোনো তথ্য দেয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
মস্কোর বিরুদ্ধে ইউরোপের অখণ্ডতা ও ইউক্রেন সমর্থন দমানোর চেষ্টার অভিযোগ তুলে ম্যাখোঁ বলেন, জার্মানির লিপজিগ বিমানবন্দরে ব্যর্থ ড্রোন হামলার ঘটনার মতো ফ্রান্সও এমন হামলার শিকার হতে পারে। যদিও রাশিয়া এসব অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও রাশিয়াবিরোধী উন্মাদনার ফল বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তবু ম্যাখোঁ বলেন, ইউরোপের দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়া একের পর এক শত্রুতামূলক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। জার্মানি জানিয়েছে, আগস্টে লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার যে চেষ্টা হয়েছিল, এর জন্য রাশিয়াই দায়ী।
রাশিয়ার সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও কিছু ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে। ফ্রান্স জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরে রুশ-উজবেক ব্যবসায়ী আলিশের উসমানভকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে আজারবাইজান কারাবন্দি এক ফরাসি নাগরিককে মুক্তি দিয়েছে। এছাড়া ইউক্রেন ইস্যু এবং রাশিয়ার হাইব্রিড হামলা মোকাবিলার কৌশল নিয়ে গত সপ্তাহে এলিসি প্রাসাদে ফ্রান্সের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ম্যাখোঁ বিশেষ বৈঠক করেছেন। ম্যাখোঁ বলেন, ইউরোপকে ভয় দেখানো এবং ইউক্রেনকে সমর্থনের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় দেশগুলোর দৃঢ়তা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে মস্কো। তবে ইউরোপে রাশিয়ার 'হাইব্রিড হামলা' নিয়ে ম্যাখোঁর অবস্থান এ সপ্তাহে কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে কারাগারে থাকা এক ফরাসি নাগরিককে ক্ষমা করে দেয় আজারবাইজান।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০