
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা নিরসনে এবং শান্তি আলোচনা পুনরায় চালুর উদ্যোগে তেহরান সফর করেছে কাতারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তারা তেহরানের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং বর্তমান সংবেদনশীল আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করছেন। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা যখন আবার নতুন করে চরম রূপ নেওয়ার আশঙ্কায়, ঠিক তখনই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বরফ গলাতে তৎপর হয়ে উঠেছে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো। গত কয়েকদিনে আরও কয়েকটি দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইরানের রাজধানী সফর করেছেন।
ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো একটি বিশেষ বার্তা তেহরানে পৌঁছেছে। ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মহসিন রেজাইয়ের উদ্দেশে পাঠানো এই চিঠিতে সরাসরি কোনো কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়নি, বরং ভবিষ্যতে কীভাবে আলোচনার টেবিলে বসা যায় এবং একটি সম্ভাব্য কাঠামো দাঁড় করানো যায়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, গত সপ্তাহে কাতারের মধ্যস্থতায় বার্তাটি সফলভাবে পৌঁছে দেওয়া হয়। এছাড়া ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’ জানায়, ভ্যান্স গত সপ্তাহে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এ বিশেষ যোগাযোগের উদ্যোগ নেন এবং চিঠিটি সফলভাবে জেনারেল মহসdন রেজাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
চলতি বছরের এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে সংকট উত্তরণে কাতার ও পাকিস্তান জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে গত রবিবারও কাতারের একটি দল তেহরানে এসে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেছিল। এছাড়া গত মঙ্গলবার মস্কোয় এক বৈঠকের ফাঁকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দ্বিপক্ষীয় যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
পরিস্থিতি শান্ত করতে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও চলতি সপ্তাহে তেহরান সফর করে ধারাবাহিক বৈঠক করেছেন। উল্লেখ্য, এই তিন দেশ গত আগস্টে মক্কায় একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল।
তবে সংকট পুরোপুরি কাটেনি। যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবরোধের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মারাত্মক বিঘ্নিত হচ্ছে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে তেহরান জানিয়েছে, এর জন্য ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা, আটকে থাকা সম্পদ অবমুক্ত করা, তেল খাতের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার মতো সাতটি সুনির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে, যা দেশটির তেল রপ্তানি ও সার্বিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে চরম সংকটে ফেলেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০