
রাশিয়ার পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সামরিক উসকানি ও নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় ফিনল্যান্ড নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে দেশটি ১০ লাখ পদাতিকবিরোধী স্থলমাইন সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য ১০ কোটি ইউরো বা প্রায় ১১ কোটি ২০ লাখ ডলার ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির। গত বছর স্থলমাইন ব্যবহার নিষিদ্ধসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি 'অটোয়া কনভেনশন' থেকে বেরিয়ে আসার পর এই বড় পদক্ষেপ নিলেন ফিনল্যান্ডের নীতিনির্ধারকরা। দেশগুলো রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকির কথা উল্লেখ করে এ সিদ্ধান্ত নেয়।
ফিনল্যান্ডের সেনাবাহিনীর কর্নেল রিকু মিক্কোনেন দেশটির জাতীয় সংবাদ সংস্থা এসটিটিকে জানিয়েছেন, বর্তমানে মাইন সংগ্রহের লক্ষ্যে সরবরাহকারীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
দেশটির লক্ষ্য হলো নিজস্ব উৎপাদকদের মাধ্যমেই এই মাইনগুলো তৈরি করা।
২০২৭ সালের শেষ নাগাদ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই করতে চায় এবং ২০২৮ সালের মধ্যে উৎপাদন শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মিক্কোনেন জানান, ফিনল্যান্ডের ছয়টি প্রতিষ্ঠান এই মাইন উৎপাদনের সক্ষমতা রাখে এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদন দেশীয় নিরাপত্তার জন্য উপকারী হবে। তবে প্রয়োজনে বিদেশ থেকে মাইন কেনার পথও পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি।
একসময় স্থলমাইন নিষিদ্ধ ও ধ্বংসের পক্ষে থাকা অটোয়া কনভেনশনে ২০১২ সালে যোগ দিয়েছিল ফিনল্যান্ড। সেই চুক্তির আওতায় তারা ১০ লাখের বেশি মাইন ধ্বংসও করেছিল। কিন্তু বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ২০২৫ সালের এপ্রিলে তারা চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয় এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে সব বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত হয়। একই পথে হেঁটেছে এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও পোল্যান্ডের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোও, যারা রাশিয়ার হুমকিকে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেত্তেরি অর্পো রাশিয়াকে একটি দীর্ঘমেয়াদী হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। রাশিয়ার সঙ্গে ফিনল্যান্ডের দীর্ঘ ১ হাজার ৩৪০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ফিনল্যান্ড তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। দেশটির অভিযোগ, পূর্ব সীমান্ত দিয়ে অভিবাসীদের ব্যবহার করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অবস্থান আরও কঠোর করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিনা ভালতোনেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইউক্রেনে যতদিন রাশিয়ার আগ্রাসন চলবে, ততদিন রুশ নাগরিকদের ইউরোপে পর্যটন ভিসা দেওয়া উচিত নয়। তার মতে, যেখানে রাশিয়া ইউক্রেনে বোমা হামলা চালাচ্ছে, সেখানে দেশটির নাগরিকদের ইউরোপের স্বাধীনতার সুযোগ-সুবিধা ভোগ করা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। ইউক্রেনকে সমর্থনকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়া ক্রমবর্ধমানভাবে বিভিন্ন ধরনের প্রচলিত যুদ্ধের বাইরের তৎপরতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০২৫ সালে শেনজেনভুক্ত দেশগুলো রুশ নাগরিকদের প্রায় পাঁচ লাখ পর্যটন ভিসা প্রদান করেছে বলে তথ্য দিয়েছেন ভালতোনেন। উল্লেখ্য, ফিনল্যান্ড ২০২২ সালেই রুশ নাগরিকদের জন্য পর্যটন ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্য সব সদস্য রাষ্ট্রকেও একই কঠোর নীতি অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০