
ইউক্রেনে আগ্রাসনের দায়ে রাশিয়ার ওপর মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া কঠোর নিষেধাজ্ঞার বেশ কিছু অংশ কার্যকর না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার রাতে এক নির্বাহী আদেশে তিনি জানিয়েছেন, এসব নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর না করা যুক্তরাষ্ট্রের ‘জাতীয় স্বার্থেই’ প্রয়োজন। যদিও গত সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প নিজেই এই নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত বিলে স্বাক্ষর করেছিলেন, যা আগামী রোববার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন, মৃত বেড়ে ১০। সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ২ বাংলাদেশির পরিচয় এখনো জানে না কনস্যুলেট। প্রথমবারের মতো সবুজ নক্ষত্রের সন্ধান। হামের উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, মোট ১১৮৯। মঙ্গলবার রাতে স্টারলিংকের ইন্টারনেটের গতি কমে যাওয়ার সময় রাশিয়া ইউক্রেনে বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী হামলা চালায়।
প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে নামকরণ করা এই আইনটি মূলত রাশিয়ার অর্থনীতিকে লক্ষ্য করে প্রণীত। আইন অনুযায়ী, রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে প্রেসিডেন্টকে, যার মধ্যে চীন ও ভারত অন্যতম। এছাড়া পুতিন, জ্যেষ্ঠ রুশ কর্মকর্তা এবং ব্যাংকগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি রাশিয়ার ব্যবহৃত ‘ছায়া নৌবহর’ বা তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকেও এর আওতায় আনার কথা রয়েছে। দক্ষিণ ক্যারোলাইনার এই সিনেটর গত ১১ জুলাই মারা যান। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইনটির মূল লক্ষ্য রাশিয়ার অর্থনীতি।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের ২০ জন আইনপ্রণেতা গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্পকে একটি চিঠি দিয়েছিলেন, যেখানে গ্রাহাম আইনের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছিল। তাদের মতে, পুতিনকে শান্তি আলোচনায় বাধ্য করতে এই আইন অত্যন্ত জরুরি। তবে ডেমোক্র্যাট নেতা ডন বেয়ার এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ট্রাম্প মস্কোর কাছে নতি স্বীকার করছেন এবং ইউক্রেনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন। বিবিসি জানিয়েছে, ট্রাম্পের এ পরিকল্পনায় মার্কিন আইনপ্রণেতারা বিস্মিত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বেয়ার লেখেন, ‘পুতিনের ব্যাপারে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত ইউক্রেনের সঙ্গে আবারও বিশ্বাসঘাতকতার মতো। একইসঙ্গে রাশিয়ার অবৈধ আগ্রাসনের শাস্তি নিশ্চিত করতে কংগ্রেস যে আইন করেছে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত সেই উদ্দেশ্যেরও বিরোধী।’। দেশ তিনটি ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপীয় মিত্র। ট্রাম্পের এ ঘোষণায় বিস্ময় প্রকাশ করেন জেলেনস্কি।
এদিকে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম সামলাতে রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা নিয়ে বেশ সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে সংঘাত শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। দেশের অভ্যন্তরে দ্রব্যমূল্যের চাপ কমাতে এবং আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের স্বস্তি দিতে তিনি পুতিনের সঙ্গে ডিজেল আমদানির সমঝোতা করেছেন। এই উদ্যোগকে ইউক্রেনের মিত্ররা রাশিয়ার যুদ্ধের আর্থিক রসদ হিসেবে দেখছেন। এ নির্বাচনের মাধ্যমে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে। গত ৯ অক্টোবর পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার বিষয়ে সমঝোতার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রাশিয়া আর্থিক সুবিধা পেতে পারে। তার মতে, এটি এমন এক যুদ্ধে বিনিয়োগের শামিল, যে যুদ্ধের অবসান হওয়া উচিত। তবে তিনি বলেন, রাশিয়া হামলা বন্ধ করলে ইউক্রেনও হামলা বন্ধ রাখবে। তিন দিন পর ইউক্রেনও আবার হামলা শুরু করে।
এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, রাশিয়া ও ইউক্রেন একটি ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে’ সম্মত হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে এই দাবির বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য তিনি দেননি। জেলেনস্কি এই সমঝোতাকে রাশিয়ার জন্য উপহার হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছেন, ইউক্রেন শুধু নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে। বাস্তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকেও এ ধরনের কোনো চুক্তির বিষয়ে কোনো সম্মতি মেলেনি। অন্যদিকে মস্কো জানায়, এ ধরনের কোনো সমঝোতায় তারা সম্মত হয়নি। রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে কিয়েভের হামলাকে তিনি ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেন।
যুদ্ধের ময়দানে উত্তেজনা এখন চরমে। রাশিয়া ও ইউক্রেন পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রেখেছে। ট্রাম্প ইউক্রেনকে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন, অন্যথায় গোয়েন্দা সহায়তা বন্ধের হুমকিও দেওয়া হয়। এদিকে চলতি সপ্তাহে স্টারলিংক ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের গতি কমিয়ে দেওয়ার ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। জেলেনস্কি এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে, ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়ার অংশ হিসেবে পোল্যান্ডে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি বড় ধরনের সামরিক মহড়া চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সব মিলিয়ে একদিকে নিষেধাজ্ঞার আংশিক স্থগিতাদেশ, অন্যদিকে জ্বালানি বাণিজ্য ও সামরিক সহায়তার জটিল সমীকরণ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেছেন, ইউক্রেনের প্রয়োজনীয় সামরিক প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনে সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতেই এ মহড়ার আয়োজন করা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০