
যুক্তরাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটি আরএএফ ফেয়ারফোর্ডের কাছ থেকে গ্রেপ্তার পাঁচ সন্দেহভাজনকে সোমবার জামিনে মুক্তি দিয়েছে পুলিশ। বিস্ফোরকদ্রব্য বহন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে তাঁদের আটক করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের দাবি, বড় কোনো ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ওই ব্যক্তিরা বিমানঘাঁটির কাছাকাছি এলাকায় এসেছিলেন। যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে বিমানঘাঁটিতে কী ঘটেছে, এ পর্যন্ত যা জানা গেল।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের সবার বয়স ২০-এর কোঠায় এবং তাঁরা সবাই ব্রিটিশ নাগরিক। গত রোববার স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে তিনটি সন্দেহভাজন গাড়ি ওই বিমানঘাঁটির দিকে এগিয়ে যাওয়ার খবর পায় গ্লস্টারশায়ার পুলিশ। পরবর্তী সময়ে ঘাঁটি থেকে প্রায় ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার দূরের উইলফোর্ড এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনার পর আশপাশের ৮৫টি বাড়ির বাসিন্দাদের নিরাপত্তার স্বার্থে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাজ্যে মার্কিন বিমানঘাঁটির কাছ থেকে গ্রেপ্তার ৫, সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ৮৫ বাড়ির লোকজনকে।
যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবাদবিরোধী পুলিশ প্রধান লরেন্স টেলর জানান, কঠোর শর্তে তাঁদের জামিন দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হয়ে যায়নি এবং একাধিক দিক থেকে এর অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। টেলর সরাসরি কোনো রাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না করলেও বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কোনো বিদেশি রাষ্ট্র বা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অন্য কোনো শক্তির হয়ে পরোক্ষ বা সরাসরি কাজ করা কোনো গোষ্ঠী এই ষড়যন্ত্রের পেছনে থাকতে পারে।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ইরানের সংশ্লিষ্টতার গুঞ্জন তৈরি হলেও লন্ডনে অবস্থিত ইরান দূতাবাস তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কিছু ব্যক্তি ও সংবাদমাধ্যমের তোলা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও বিদ্বেষপূর্ণ। এ ধরনের প্রচার যুক্তরাজ্যে ‘ইরানভীতি’ ছড়ানোর অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয় এবং এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার ইরানের রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ঘটনার সঙ্গে ইরানের যোগসূত্র থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন। তবে পাঁচ সন্দেহভাজনকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, তিনি এমনটি করতেন না। আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন বাহিনী ব্যবহার করে আসছে এবং সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রেও এর ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে। তদন্তকারীরা এখনো নিশ্চিত নন যে, কোনো বিদেশি সরকার বা সশস্ত্র গোষ্ঠী এই কথিত ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে সক্রিয় কি না।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০